---Advertisement---

Auto Image Slider

কাটোয়ায় বিজেপির অন্তর্কলহ তুঙ্গে: নেতাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্যে এল। কাটোয়ার রাজপথে দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ এবং অভিযোগমূলক পোস্টারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টারগুলোতে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করা হয়েছে যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর অনেক জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব বিজেপি কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে সরাসরি শাসক দলের সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনার ফলে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন পোস্টারের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, যে সমস্ত নেতা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মীদের সুরক্ষা দিতে পারেননি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাদের কোনোভাবেই দলের রাজনৈতিক মঞ্চে জায়গা দেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

উক্ত পোস্টারগুলোতে বিজেপির একাধিক প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে এসেছে অনিল দত্ত, প্রফেসর দয়াময় বিষুই, প্রাক্তন জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ, সীমা ভট্টাচার্য, অশোক রায় এবং পূর্ণেন্দু দত্তর মতো ব্যক্তিদের নাম। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা মূলত ‘অকর্মণ্য’ এবং দলের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। পোস্টারদাতাদের মতে, কাটোয়া বিধানসভায় বিজেপি সংগঠনকে রক্ষা করতে হলে এই সমস্ত নেতাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনো কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সামনেই বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচি রয়েছে জেলায়। কিন্তু তার ঠিক পূর্বেই এই ধরনের পোস্টার এবং আদি বিজেপি কর্মীদের বিদ্রোহ দলের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের আশঙ্কা, হিন্দুত্ববাদী এবং আদর্শগত ভাবে স্বচ্ছ কর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখার ফলে সংগঠন দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পরিবর্তন যাত্রার লোক সমাবেশের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মীরা মনে করছেন যে, বর্তমান নেতৃত্ব যদি তাদের সঠিক মর্যাদা না দেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তার ফল ভোগ করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে এই অভ্যন্তরীণ অন্তর্কলহ দলেরই বেশি ক্ষতি করছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

See also  করোনার থাবায় দিশাহারা এবার পূর্ব বর্ধমানের বনেদি বাড়ির পুজোও

ক্ষুব্ধ ও দলে কোণঠাসা হয়ে পড়া একদল আদি বিজেপি নেতাকর্মী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারা নির্দল প্রার্থী হিসেবেও লড়াই করতে পিছপা হবেন না। তাদের মতে, আসল বিজেপি কর্মীরাই আগামীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই দেবে, সেখানে বেইমান নেতাদের কোনো স্থান নেই। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের মতে, বিজেপির নীতিহীন রাজনীতির কারণেই এই দশা। বর্তমানে কাটোয়ায় বিজেপি নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেও পোস্টার বিতর্কের জেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে নেতিবাচক বার্তা গিয়েছে, তা সংশোধন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---