ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বসন্ত উৎসবের রঙে মেতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই জেলায় সুরা বিক্রির নজিরবিহীন রেকর্ড তৈরি হলো। ২০২৬ সালের হোলি এবং দোল উৎসবের দিনগুলিতে যে পরিমাণ সুরা বিপণন হয়েছে, তা বিগত বছরের সমস্ত পরিসংখ্যানকে ম্লান করে দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দোল ও হোলির দুই দিনে জেলায় মোট ১১ কোটি ১২ লক্ষ টাকার সুরা বিক্রি হয়েছিল। এ বছর ২,৩ ও ৪ মার্চ সেই পরিসংখ্যান এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার সুরা বেশি বিক্রি হয়েছে, যা জেলার বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে উঠে আসছে। যদিও এই বিপুল বিক্রির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সম্মুখে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করেছেন জেলা আবগারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

জেলা আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের এই নীরবতা লক্ষ্য করার মতো। দপ্তরের ওসি সুকল্যান উপাধ্যায় এই বিষয়ে জানান যে, তারা সংবাদমাধ্যমের কাছে বর্তমানে কোনো তথ্য প্রদান করতে পারবেন না এবং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে যে, ২,৩ ও ৪ মার্চ মূলত এই বিপুল পরিমাণ সুরা বিপণন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ৩ মার্চ রাতে শহরের বিভিন্ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সুরার দোকানগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বর্ধমান শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় দোলের পরদিন অর্থাৎ হোলি খেলার দীর্ঘকালীন প্রথা থাকায়, ওই দিন দুপুর পর্যন্ত সমস্ত সুরার দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে দোকান খোলার পর থেকেই যে হারে ক্রেতাদের সমাগম ঘটেছিল, তা ছিল সত্যিই অভাবনীয়। এই বিক্রির সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা পড়েছে।

আবগারি দপ্তরের জনৈক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, এবারের হোলিতে জেলায় অত্যন্ত সন্তোষজনক হারে রাজস্ব আদায় হয়েছে। সাধারণত দুর্গাপূজা, কালীপূজা, বড়দিন কিংবা বর্ষবরণের রাতে জেলায় সুরার চাহিদা তুঙ্গে থাকে। তবে এবারের দোল উৎসব সেই প্রচলিত ধারাকে অনেকটা টেক্কা দিয়েছে। উৎসবের মরসুমে এই বিপুল রাজস্ব আদায় প্রশাসনের কাছে স্বস্তিদায়ক হলেও, আধিকারিকরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। মূলত রাম, হুইস্কি এবং ভদকার চাহিদাই বাজারে সবথেকে বেশি ছিল। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এবার বিয়ারের চাহিদাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

জিটি রোডের এক ফরেন লিকার শপের স্বত্বাধিকারী সায়ন্তন সোম জানান, হোলির আগের দিন থেকেই সাধারণ মানুষ দোকানের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন। সুরাপ্রেমীদের চাহিদাতেও ছিল বৈচিত্র্য। রাম ও হুইস্কি প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হলেও তুলনামূলকভাবে ভদকার চাহিদা ছিল কিছুটা কম। বিভিন্ন সংস্থার বিয়ারের স্টকও দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় দোকান খোলা রাখার অনুমতি মেলায় ব্যবসায়িক দিক থেকে তাঁরা লাভবান হয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়নি, যা এই বিশাল অঙ্কের বিক্রির অন্যতম প্রধান কারণ। ক্রেতাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া খুচরো ব্যবসায়ী মহলে খুশির হাওয়া নিয়ে এসেছে।
জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি পানশালার বা ‘বার’-এর ম্যানেজার সুশান্ত সাহাবিশ্বাস বলেন যে, হোলির প্রাক্কালে অর্থাৎ উৎসবের সূচনায় তাদের বিপণন সর্বাধিক স্তরে পৌঁছেছিল। দোল খেলার পর বিকেলের দিক থেকে ক্রেতাদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমনকি যারা সচরাচর পানশালায় এসে সুরা পান করেন না, তাঁদের উপস্থিতিও এবার নজর কেড়েছে। অন্যদিকে খোসবাগান এলাকার দেশি মদের দোকানের কর্মী শেখ আকতার জানান যে, তাঁদের দোকানে সারা বছরই ভালো বিক্রি থাকলেও রঙের উৎসবের দুই দিন তা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছিল। উৎসবের মেজাজ আর বাণিজ্যিক লাভের এই যুগলবন্দি জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।










