ফোকাস বি এনগাল ডেস্ক,বর্ধমান: রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবাতে আধুনিকতার নয়া সংযোজন ঘটল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। শুক্রবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হল বেডসাইড ডায়ালাইসিস পরিষেবা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিজিটাল ফ্লুরোস্কোপি মেশিন। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির বিশিষ্ট সদস্য খোকন দাস একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুই পরিষেবার শুভ উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়, হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ সহ অন্যান্য বরিষ্ঠ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকগণ। এই নতুন পরিকাঠামো জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন তথ্যভিজ্ঞ মহল।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বেডসাইড ডায়ালাইসিস পরিষেবাটি অত্যন্ত সংকটজনক রোগীদের ক্ষেত্রে সঞ্জীবনী হয়ে উঠবে। এর পূর্বে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হলে অত্যন্ত অসুস্থ রোগীদেরও নির্দিষ্ট ডায়ালাইসিস ইউনিটে স্থানান্তরিত করতে হতো, যা অনেক সময় ঝুঁকি বৃদ্ধি করত। বর্তমান ব্যবস্থার ফলে এখন থেকে আইসিইউ (ICU) বা সাধারণ ওয়ার্ডেই শয্যাশায়ী অবস্থায় রোগীদের ডায়ালাইসিস প্রদান সম্ভব হবে। চিকিৎসকদের মতে, যাতায়াতের সমস্যা দূর হওয়ার ফলে রোগীর শারীরিক ধকল কমবে এবং তৎক্ষণাৎ জীবনদায়ী চিকিৎসা শুরু করা সহজ হবে। বিশেষত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা রোগীদের জন্য এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে।

পাশাপাশি, রেডিওলজি বিভাগের মুকুটে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল ফ্লুরোস্কোপি মেশিনের নতুন পালক। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গতিশীল ছবি রিয়েল-টাইমে প্রত্যক্ষ করা। প্রচলিত এক্স-রে যেখানে স্থির ছবি প্রদান করে, সেখানে ফ্লুরোস্কোপি চিকিৎসকদের শরীরের ভেতরকার কার্যপ্রণালী সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল রোগ নির্ণয়, খাদ্যনালীর গতিবিধি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে নির্ভুল ডায়াগনস্টিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই যন্ত্রটি স্থাপনের ফলে জেলার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার জন্য আর কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হবে না।
উদ্বোধনী ভাষণে বিধায়ক খোকন দাস বলেন যে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত মানের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্ধমান মেডিকেল কলেজে শুধুমাত্র জেলার নয়, বরং পার্শ্ববর্তী বীরভূম, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলার বহু মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্ধমানের এই আধুনিকীকরণ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের রোগীদের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতাল কর্মীদের নিষ্ঠার প্রশংসা করে জানান যে, চিকিৎসা পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন বর্তমানে তদন্তাধীন বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল, যা আজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলো।
সমগ্র প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ জোর দিয়ে বলেন যে, আধুনিকীকরণের এই কর্মযজ্ঞ এখানেই থামবে না। ভবিষ্যতে আরও একাধিক উন্নত মানের যন্ত্র এবং বিশেষায়িত ইউনিট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে এই ধরণের বহুমূল্য পরিষেবা প্রদান করা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। নতুন এই ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং ডিজিটাল ফ্লুরোস্কোপি মেশিনটি শুক্রবার থেকেই কার্যকরী করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিষেবা চালুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও রোগী পরিবারগুলির মধ্যে স্বস্তির ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।










