ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের রেলপার এলাকায় এক নাবালক কিশোরের অপহরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। তখন কিশোরের অপহরণের অভিযোগে বর্ধমান থানায় মামলা রুজু করা হয়। যদিও পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অপহরণকারীদের গোপন ডেরা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় ওই কিশোর। বাড়িতে ফিরে এসে যে তথ্য সরবরাহ করে ওই কিশোর তা শিহরণ জাগানোর মতো। সে জানায়, যে স্থানে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, সেখানে আরও বেশ কিছু কিশোরকে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নিগ্রহ ও অমানবিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গত শুক্রবার রাতে বাজেপ্রতাপপুর ও হটুদেওয়ান সংলগ্ন এলাকায় বাবলু শেখ (৪৪) এবং শেখ মোবারক (৩২) নামক দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, অপহরণকারীদের ডেরা থেকে ফিরে আসা কিশোর কে পুনরায় অপহরণ করার উদ্দেশ্যেই ওই দুই ব্যক্তি এলাকায় হানা দিয়েছিল। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে স্থানীয় জনতা ওই দুজনকে ঘিরে ধরেন এবং দফায় দফায় জেরা শুরু করেন। উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় উত্তেজিত জনতা ছেলেধরা সন্দেহে অভিযুক্তদের গণপিটুনি দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গণপিটুনির হাত থেকে দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
শনিবার সকালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার প্রেক্ষিতে পুলিশ মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা বাবলু শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের গলসির বাসিন্দা শেখ মোবারককে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি বড়সড় নাবালক পাচার চক্রের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখলেও পুলিশ নিশ্চিত যে এই চক্রের জাল রাজ্যের বাইরেও বিস্তৃত থাকতে পারে। আদালতের বিচারক ধৃতদের দুই দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন যে এই চক্রের সঙ্গে আর কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্ত এবং কতজন কিশোর এখনও তাদের কবজায় রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গতিপ্রকৃতি এবং অপরাধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ধমানের মতো জায়গায় এসে তারা কাদের টার্গেট করছিল এবং এই আন্তঃজেলা পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা কে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং আতঙ্ক দূর করতে পুলিশ টহলদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।










