ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার মির্জাপুর আদিবাসী পাড়া থেকে নাদরা যাওয়ার পথে নিমতলা মাঠে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা যখন মাঠে চাষের কাজের জন্য যাচ্ছিলেন, তখনই প্রথম বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পাশে একটি মোটর সাইকেল দাঁড় করানো ছিল এবং তার ওপরেই রাখা ছিল কোমরের বেল্ট ও একটি মোবাইল ফোন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহ দানা বেঁধেছে। জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, মৃতদেহটি শনাক্তকরণের চেষ্টা করার সময় হঠাৎ মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠে এবং উপস্থিত এক ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করে অপর প্রান্তে থাকা আত্মীয়দের এই মর্মান্তিক খবর টি দিয়ে দেন।

খবর পাওয়া মাত্রই মৃতের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বর্ধমান থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির নাম প্রশান্ত খাঁড়াৎ, যাঁর বয়স ৩৮ বছর। তিনি বর্ধমান ২ ব্লকের সোনাপলাশী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক প্রশান্তর একটি ৮ বছরের পুত্রসন্তান এবং এক বিবাহিতা কন্যা রয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টে নাগাদ জামাইয়ের মোটর সাইকেল নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রাত ১০টা বেজে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সারা রাত প্রশান্তর কোনো হদিশ মেলেনি এবং বৃহস্পতিবার সকালে এই অনভিপ্রেত ঘটনার কথা তাঁরা জানতে পারেন। মৃতদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিষয়টি বর্তমানে ‘তদন্তাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই স্পষ্ট হবে যে এটি আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে কোনো অপরাধমূলক চক্রান্তের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা জড়িত রয়েছে কি না। প্রাথমিক পর্যায় পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, যেভাবে মোটর সাইকেলের ওপর মোবাইল এবং বেল্ট সাজিয়ে রাখা ছিল, তা স্বাভাবিক কোনো মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয় না। গোটা ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল লিস্ট পরীক্ষা করে অভিযুক্ত বা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবারের লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারী আধিকারিকরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। শোকাতুর পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। বর্ধমান থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে কোনো ফাঁক রাখা হবে না এবং দ্রুত সত্য উদঘাটিত হবে।










