সৌরীশ দে,পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই বামফ্রন্ট ও ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের প্রার্থী তালিকার কিয়দাংশ প্রকাশ করেছে। এই আবহে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা জনসমক্ষে আনতে পারে। জেলাওয়ারি পাটিগণিত কষে কাকে কোথায় প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দলের শীর্ষ মহলে দফায় দফায় বৈঠক চলেছে। বিশেষ করে বর্ধমান জেলার আসনগুলি নিয়ে কাঁটাছেঁড়া চলছে দীর্ঘ সময় ধরে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক বিন্যাস পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় খোকন দাসের ওপরই আস্থা রাখতে চলেছে বলে খবর। তবে জেলার অন্যান্য বেশ কিছু আসনে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টিকিট পাওয়ার দৌড়ে জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি রাসবিহারী হালদারের সম্ভাবনাও প্রবল ভাবে উঠেছে বলেও সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, বর্ধমান উত্তর, মেমারি, জামালপুর, ভাতার, মঙ্গলকোট ও আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এবার নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এই আসনগুলিতে জনমতের ভিত্তিতে বা সাংগঠনিক প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলনেত্রীর ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে, রায়না, খণ্ডঘোষ, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, পূর্বস্থলী দক্ষিণ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে পুরোনো ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের ওপরই দল পুনরায় ভরসা রাখতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে গলসি, কালনা এবং পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে নতুন চমক আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত, জয়লাভ নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও এলাকার গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে পেতে আগামী চব্বিশ ঘণ্টা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। বর্তমানে সমস্ত প্রস্তাবিত নামই তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।










