ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই পূর্ব বর্ধমান জেলার সাংগঠনিক স্তরে আদি ও নব্য শিবিরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত প্রার্থীদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি আসনে পৃথক ‘হিন্দুত্ববাদী’ প্রার্থী দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সনাতনী ঐক্য মঞ্চ’ নামক একটি সংগঠন। বিক্ষুব্ধ এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে হিন্দুত্ববাদী আদর্শ এবং সংগঠনের কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কেবল তাদেরকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের এই বিদ্রোহে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

আদি বিজেপি শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ মহেন্দ্র কোনার এই বিষয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৬টি বিধানসভা আসনেই নির্দল প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই প্রত্যেক প্রার্থী ‘হিন্দুত্ববাদী আদি বিজেপি’ হিসেবে স্থানীয় স্তরে পরিচিত। ইতিপূর্বেই দলের উচ্চ নেতৃত্বকে এই অসন্তোষের কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে বর্ধমান উত্তর, ভাতার, মন্তেশ্বর এবং দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত প্রার্থীদের নাম প্রত্যাহার করার দাবি তোলা হয়েছে। তাঁদের এই দাবি যত দ্রুত সম্ভব মানা না হলে নির্ধারিত ১৬টি আসনেই বিকল্প প্রার্থীর নাম সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, সনাতনী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৬৩-মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সৌগত দে, ২৬০-বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রসেনজিৎ দাস, ২৬৭-ভাতার বিধানসভায় রাধারাণী অধিকারী, ২৭৬-দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে অমিতাভ ব্যানার্জি এবং ২৬৬-বর্ধমান উত্তর থেকে রাধাকান্ত রায়ের নাম উঠে এসেছে। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও সব আসনে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা না হলেও, যে কয়েকটি নাম সামনে এসেছে তা ঘিরেই এই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। বর্তমানে তদন্তাধীন পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা নেতৃত্বের কাছে এই অন্তর্কলহ মেটানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সৌম্যরাজ ব্যানার্জী জানিয়েছেন, ” প্রার্থী তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে দলেরই কিছু নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে শুনেছি। এইরকম হতেই পারে, সবাইকে সবার পছন্দ হবে এমন নয়। তবে সবটাই দলের উচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। সেক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটে যাবে। প্রয়োজনে আমি নিজেও তাদের সঙ্গে কথা বলবো। আমাদের দলের শৃংখলা মেনে সবাই একজোট হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো ভোটের ময়দানে। ”
এদিকে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বর্ধমানের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের জেলা নেতৃত্ব বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও বিক্ষুব্ধ অংশ পিছু হটতে নারাজ। নব্য বিজেপি প্রার্থীদের আগমনে আদি কর্মীদের যোগ্য সম্মান এবং প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য নেতৃত্ব কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।










