---Advertisement---

Auto Image Slider

সরকারি আবাস যোজনার ঘরের টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ! মেমারিতে পঞ্চায়েত সদস্যের গ্রেপ্তারিতে শোরগোল

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, মেমারি: সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক এবং সাধারণ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ধৃতের নাম অজয় চন্দ ওরফে সল্টু, যিনি মেমারি ১ পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত দূর্গাপুর অঞ্চলের আলিপুর গ্রামের নির্বাচিত সদস্য। মেমারি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। শুক্রবার দুপুরে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে মহামান্য বিচারক অভিযুক্তকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রকল্পে দেবীপুরের আলিপুর রাজবাগান কলোনী নিবাসী রাম দে একটি সরকারি ঘর পান। অভিযোগ উঠেছে যে, সেই ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সেসময় তৃণমূল নেতা অজয় চন্দ ওরফে সল্টু রাম দে-এর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা কাটমানি হিসাবে গ্রহণ করেন। রাম দে ছাড়াও, স্থানীয় সূত্রে খবর, একই অঞ্চলের আরও দুই বাসিন্দা সুভাষ বৈদ্য এবং প্রহ্লাদ বনিকের কাছ থেকেও অনুরূপভাবে সরকারি ঘরের জন্য কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অজয় চন্দের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগগুলি বর্তমানে পুলিশি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

দীর্ঘদিন কেটে যাওয়ার পর, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ পেয়ে অভিযোগকারী রাম দে সম্প্রতি তার দেওয়া সেই ২০ হাজার টাকা অজয় চন্দের কাছ থেকে ফেরত চাইতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় অজয় চন্দ ওরফে সল্টু তাকে কটুক্তি করেন এবং প্রকাশ্যেই প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপরই রাম দে আর কালক্ষেপ না করে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মেমারি থানার পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার রাতে অজয় চন্দকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

See also  দোকানের শাটার ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র আলোড়ন গলসি বাজারে

গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার সকালে অজয় চন্দকে মেমারি থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে কড়া পুলিশি পাহারায় বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের আবেদন জানানো হয়। বিচারক উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে পুলিশি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ধৃতকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ধৃত তৃণমূল সদস্য অজয় চন্দ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন। তবে, পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে নিছকই একটি অপরাধমূলক অভিযোগ হিসেবে দেখছে এবং তদন্তে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---