ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,খণ্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে আজ, শুক্রবার সকালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মণ্ডল সভাপতির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ‘বিজয় যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে, বুলডোজারে চেপে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে সকাল থেকেই গোটা এলাকাজুড়ে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়। খণ্ডঘোষের ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি কৌশিক আশের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে।


আমিলা বাজার থেকে এই বিজয় মিছিল শুরু হয়ে বর্ধমান-আরামবাগ ৭ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে সেহারাবাজার এলাকায় পৌঁছায়। মিছিলের সামনে একটি বুলডোজার রাখা হয়েছিল, যা ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে জোরালো স্লোগান এবং ঢোলের তালে তালে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দীর্ঘ শোভাযাত্রা এগিয়ে চলে। পথের ধারে দাঁড়িয়ে বহু উৎসুক মানুষ হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানান। সেহারাবাজার বাস স্টপেজ এলাকায় একটি সম্বর্ধনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
এই মিছিলে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব, যুব মোর্চার সদস্য, মহিলা কর্মী-সমর্থক সহ বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। গোটা রাস্তা জুড়ে “পরিবর্তনের ডাক”, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলা চাই” সহ একাধিক রাজনৈতিক স্লোগানে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। বিজেপি নেতৃত্বদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে উঠেছে, এই বিজয় যাত্রা সেই জনমতেরই প্রতিফলন।
বিজেপি নেতৃত্বরা আরও বলেছেন, “রাজ্যের মানুষ এখন আর ভয় পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষ নতুনভাবে স্বাধীনতার অনুভূতি উপলব্ধি করছেন বলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আনন্দ মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিজেপির এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নেবে”।

মিছিলে বুলডোজারের ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও বিজেপি নেতৃত্বরা এদিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, “বুলডোজার কোনও ভয়ের প্রতীক নয়। এটি দুর্নীতি, অপশাসন ও গরিব মানুষের অধিকার লুটের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা। যারা দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত দুর্নীতি, কাটমানি ও সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের রাজনীতি করেছে, তারাই এখন আতঙ্কিত”। তাঁদের আরও বক্তব্য, “বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই মানুষ তাদের মত প্রকাশ করছেন। এই বিজয় যাত্রা আসলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ”। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খণ্ডঘোষ ও সংলগ্ন এলাকায় দিনভর রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে ওঠে। বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।








