ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, খন্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের বোঁয়াইচণ্ডী গ্রামে মা বসন্ত চণ্ডী মন্দিরে অম্বুবাচীর পুণ্যলগ্নে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখে ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে অগণিত মানুষের ভিড় দেখা যায়, যা বিশ্বাস আর ভক্তির এক অনন্য ছবি তুলে ধরেছে। প্রতি বছর অম্বুবাচীর এই চার দিন ঘিরেই মায়ের বাৎসরিক উৎসব পালিত হয়, যেখানে ধর্মীয় আবেগ ও লোকসংস্কৃতির এক মিলনমেলা বসে।


রায়না, খণ্ডঘোষ-সহ পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে তো বটেই, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্ত এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও অসংখ্য মানুষ মায়ের দর্শনে ছুটে এসেছেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, গুটি বসন্ত, কলেরা-সহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং মনোবাঞ্ছা পূরণের আশায় মায়ের কাছে মানত করলে তা সিদ্ধ হয়। এই বিশ্বাসকে বুকে নিয়েই অনেকে মন্দির সংলগ্ন পুকুরে স্নান করে দণ্ডি কেটে মায়ের মন্দিরে পৌঁছচ্ছেন, যা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
এই উৎসবে শয়ে শয়ে ছাগ বলির প্রথা আজও প্রচলিত। পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে বসেছে এক বিশাল মেলা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই মেলাকে কেন্দ্র করে কেনাবেচাও জমে উঠেছে। বিশেষ করে এ বছর পদ্মফুলের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। এক ফুল বিক্রেতা জানান, “এবার প্রচুর পদ্মফুল বিক্রি হচ্ছে। ভক্তরা মায়ের পুজোর জন্য পদ্মফুল কিনছেন বেশি।”

মায়ের পুজো শেষে মুড়ি ও জিলাপি খাওয়ার ঐতিহ্যও এখানে সমান জনপ্রিয়। মেলা কমিটির এক উদ্যোক্তা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, “প্রথম দিনে ভিড় তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকলেও, আশা করা হচ্ছে আগামী দিনগুলিতে আরও বেশি ভক্তের সমাগম হবে।” অম্বুবাচী উপলক্ষে আগত ভক্ত, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মন্দির চত্বর এলাকায় সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। বিশ্বাস আর ভক্তির অদম্য টানে বোঁয়াইচণ্ডী গ্রাম আজ যেন এক মহামিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আজও সমুন্নত রেখেছে।








