---Advertisement---

Auto Image Slider

বর্ধমানে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় হামলার ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ, আরএসএস-বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানের বিজয়রাম নেড়োদিঘী এলাকায় ‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর একটি খ্রিষ্টান প্রার্থনা সভায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে প্রার্থনা চলাকালীন জয়শ্রীরাম স্লোগান দিতে দিতে একদল লোক গোপাল ভবনে অবস্থিত ওই প্রার্থনা কেন্দ্রে চড়াও হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা নির্বিচারে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি প্রার্থনাকারীদের মারধর করে, এমনকি মহিলাদেরও রেওয়াত না করে কান ধরে উঠবোস করানো হয়।

বিজ্ঞাপন

‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর পক্ষে ঋতম দে বর্ধমান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, দেওয়ানদিঘী এলাকার আরএসএস ও বিজেপি কর্মীরা প্রার্থনা সভায় ঢুকে বিবাদ ও অশান্তি সৃষ্টি করে। প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর করা হয়। ঋতম দে, সঙ্গীতা দাস এবং চন্দ্রা সাউ সহ বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন যে তাঁদের কান ধরে উঠবোস করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রার্থনা সভার জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য সামগ্রী কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঋতম দে আরও জানিয়েছেন, হামলাকারীরা অভিযোগ করে যে তাঁরা বিদেশ থেকে আর্থিক সহায়তা পান এবং ধর্মান্তকরণে যুক্ত। এই কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। যদিও ঋতম দে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁদের ধর্মীয় আচরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাঁই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এলাকার গরিব মানুষদের অর্থনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে যিশুর প্রার্থনার নামে সনাতনীদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে টাকা বা বিভিন্ন প্রলোভনের বিনিময়ে। তিনি স্বীকার করেন যে খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন এবং ধর্মান্তকরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বিজেপি জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেছেন, বিজেপি এই ধরনের ঘটনা সমর্থন করে না। তাঁর মতে, যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে তার জন্য পুলিশ ও আইন রয়েছে। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না। প্রার্থনাস্থলে ঢুকে এভাবে হামলা চালানো ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, যদি জোর করে সনাতনীদের ধর্মান্তকরণ করা হয়, তবে তার জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া উচিত, আইন হাতে নেওয়া উচিত নয়। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

See also  রেলের প্রতিশ্রুতি বিশ বাঁও জলে, বর্ধমানে নতুন রেলব্রীজ তৈরির দাবিতে তীব্র আন্দোলনের পথে এবার সাধারণ মানুষ
শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---