---Advertisement---

Auto Image Slider

বর্ধমানের বিসি রোডে আচমকা মন্ত্রী, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দিলেন ২ দিনের আল্টিমেটাম, পুজোর মুখে বিপাকে ব্যবসায়িমহল!

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, বর্ধমান: রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বর্ধমানের বিসি রোড পরিদর্শনে এসে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বর্ধমান পুরসভা ও পুলিশকে মাত্র দু’দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন। শুক্রবার দুপুরে এই অতর্কিত অভিযানে মন্ত্রীর কড়া অবস্থান শহরজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। পুজোর মুখে এমন নির্দেশিকা ঘিরে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত, তেমনই ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিজ্ঞাপন

বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে এদিন আচমকাই এলাকা পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। পরিদর্শনের সময়েই স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে সরাসরি অভিযোগ জানান যে, ফল বিক্রেতা-সহ অন্যান্য হকাররা কীভাবে ফুটপাত দখল করে রেখেছেন। এই অভিযোগ শুনে মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফুটপাতের বেহাল অবস্থা দেখে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন। তাঁর ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট, কারণ এই যানজট এবং জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার সৌরভ বসুকে ডেকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি অপেক্ষা করছিলেন আমি কবে আসব? এই ফুটপাত দিয়ে মানুষ কীভাবে হাঁটবে, আমাকে সেটা দেখান!’

এরপরেই মন্ত্রী কড়া নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে হকার্স মার্কেটে কারা ঘর পেয়েছিল, সেই তালিকা তৈরি করুন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা জানান। আমি পরশুদিন আসব। যাদের হকার্স মার্কেটে ঘর আছে, তাদের সেখানেই ব্যবসা করার ব্যবস্থা করুন।’ তিনি আরও জানান, যাদের হকার্স মার্কেটে কোনো ঘর নেই, তারা আপাতত ফুটপাতের এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় বসতে পারবেন, বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অবিলম্বে খালি করে দিতে হবে। এই বিষয়ে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশও দেন মন্ত্রী। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি তিনি শহরের নর্দমার খোলা ঢাকনা অবিলম্বে লাগিয়ে দেওয়া এবং বিসি রোডের দু’পাশে যত্রতত্র বাইক পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করে রাস্তা সচল রাখার নির্দেশ দেন।

জানা গিয়েছে, বিগত বাম আমল থেকেই বর্ধমানের বিসি রোডের হকার সমস্যা একটি দীর্ঘদিনের বিষয়। কাছারি রোডের হকার্স মার্কেটে মোট ১৭০টি দোকানঘর রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ ঘরই আসল বরাদ্দকারীরা ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘বিসি রোডকে হকারমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই হকার্স মার্কেট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাম আমল থেকে বর্তমান তৃণমূল সরকার, কেউই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়নি, কারণ এই হকাররাই তাদের মিটিং-মিছিলে সামনে থাকে। তাদের ব্যবহার করা হয়েছে।’ এদিন ফল বিক্রেতাদের ফুটপাত দখল করে রাস্তায় ফলের পেটি সাজিয়ে ব্যবসার বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রী সরব হন।

See also  টোটোর যানজটে নাজেহাল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও পরিবারের লোকজন

মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই পুরসভা হকার্স মার্কেটের ঘরের তালিকার খোঁজ শুরু করেছে। এই পরিদর্শনের খবরে বর্ধমান-দুর্গাপুর জেলা বিজেপির সভাপতি আশিষকুমার পাল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, ‘বর্ধমানের এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা মন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং উনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন। আমরা এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

তবে পুজোর ঠিক মুখে মন্ত্রীর এই ‘তুঘলকি’ নির্দেশ ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, হঠাৎ করে মাত্র দু’দিনে এই নির্দেশ কার্যকর করতে গেলে তাঁদের ব্যবসার চরম ক্ষতি হতে পারে। তাঁদের মতে, যদি সত্যিই পরিকল্পনা মাফিক কিছু করতে হয়, তবে সব পক্ষের সঙ্গে বসে, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। উৎসবের মুখে হকারদের সমস্যায় ফেলার এই যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---