ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানের রানীসায়র উত্তরপাড়ায় এই বছর শারদীয়া দুর্গোৎসব ১৪৩৩—‘মাতৃ আরাধনা’ এক ভিন্ন মাত্রায় উদযাপিত হতে চলেছে। ডঃ রুদ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে রামকৃষ্ণ রোডে ঘাটকালি মন্দিরের কাছে তাঁদের বাসভবনে আয়োজিত এই পারিবারিক পুজোয় সাবেকি ঐতিহ্য, ভক্তিপূর্ণ ধর্মীয় আচার এবং বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটবে।

পুজোর দিনগুলিতে শুধুমাত্র দেবীর আরাধনাই নয়, থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন যা উৎসবের আবহাওয়াকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় সকলের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দেবাশীষ চক্রবর্তীর কণ্ঠে “মহিষাসুরমর্দিনী” পরিবেশনা। দুর্গার আবাহন, অসুরদলনী রূপের মাহাত্ম্য এবং শারদোৎসবের চিরপরিচিত আবেগ এই পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সজীব হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতিকেও পুজোর পরিসরে তুলে ধরতে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার বিশেষ উদ্যোগী। সেই লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে বাউল গানের আসর। বাংলার মাটির সুর, বাউল দর্শন এবং লোকসংগীতের ঐতিহ্য এই পুজোর পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। মহিষাসুরমর্দিনী থেকে বাউল গানের সুর—এই দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার সমাহারে পুজোর দিনগুলি স্মরণীয় করে তোলার প্রস্তুতি তুঙ্গে।

ডঃ রুদ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুজোর আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তাঁরা। বিজয়া দশমীর দিনে সকাল ৯টায় অপরাজিতা পুজো এবং সন্ধ্যায় আরতির পর নিয়ম মেনে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হবে। পুজোর সূচনা থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি পর্বে পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রচলিত রীতিনীতি নিষ্ঠার সাথে মেনে চলা হবে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা এবং শুভানুধ্যায়ীদের এই সাবেকিয়ানার আবহে ধর্মীয় নিষ্ঠা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মেলবন্ধন উপভোগ করতে সপরিবারে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি কেবল একটি পুজো নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগের এক অনন্য উৎসব।








