ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমান আদালত চত্বরে বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সই এবং সিল জাল করে ভুয়ো নথি তৈরির এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিচার ব্যবস্থার পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপনসূত্রে খবর আসে যে বর্ধমান আদালত চত্বরের ‘গীতাঞ্জলি জেরক্স’ নামের একটি দোকানে বেআইনিভাবে বিচারকদের জাল সিল ও সই ব্যবহার করে ভুয়ো হলফনামা তৈরি করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায় এবং দোকানটি ঘিরে ফেলে চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। তল্লাশি চলাকালীন জেরক্স দোকানের টেবিলের ওপর থেকে একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার এবং আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের নামের রবার স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ৫০,৫২০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ধৃতদের নাম বিবেকানন্দ ঘোষ ওরফে রাজা, তোতন দাস, রাতুল পাল এবং কিশোর জুঁই। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই জেরক্স দোকানের কর্মী বিবেকানন্দ ঘোষ ওরফে রাজা এই গোটা চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। প্রয়োজনীয় ভুয়ো রবার স্ট্যাম্প তৈরির দায়িত্বে ছিল তোতন দাস। অন্যদিকে, রাতুল পাল ও কিশোর জুঁই বাইরে থেকে গ্রাহক জোগাড় এবং অর্থ লেনদেনের কাজ করত।
জেরক্স সেন্টারের মালিক অহীন্দ্র কোঙার পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অজান্তেই কর্মী বিবেকানন্দ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এই প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল এবং এই ঘটনা জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার 336, 338, 340, 341, 351, 3(5) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়, বিচারক ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এখনও পর্যন্ত কাদের কাদের এমন জাল হলফনামা সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে বর্ধমান থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।








