ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মঙ্গলকোট: পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানা এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে শনিবার প্রশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে। অজয় নদের মালিয়ারা মৌজা (জে.এল. নং- ৮৯, প্লট নং- ১০৯১) থেকে বেআইনিভাবে বালি চুরির অভিযোগে এই যৌথ অভিযানে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ও ব্লক ভূমি রাজস্ব দপ্তর এই অভিযান পরিচালনা করে, যা বেআইনি বালি কারবারের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।


প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মালিয়ারা মৌজা-র উল্লিখিত প্লটটিতে বালি উত্তোলনের জন্য সরকারি ইজারা প্রাপ্ত সংস্থা ‘মুন্সি হার্ডওয়্যার’-এর স্বত্বাধিকারী মুন্সি মহ. হাসানউজ্জামান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক এর কাছে ( ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি পদ্ধতিতে নিলামের মাধ্যমে এই এলাকার বালি উত্তোলনের অধিকার পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র (EC), স্থাপনের সম্মতিপত্র (CTE) এবং পরিচালনার সম্মতিপত্র (CTO)-সহ সকল আইনি অনুমোদন তাঁর কাছে রয়েছে এবং বর্তমানে নিবন্ধন প্রক্রিয়াও (রেজিস্ট্রেশন) চালু রয়েছে। তবে, তিনি এখনও খনন কাজ শুরু করেননি।

মুন্সি মহ. হাসানউজ্জামান তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, শেখ আরশাদ, শেখ আব্বাসউদ্দিন ও মতিয়ার রহমান-সহ আরও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই তাঁর ইজারাভুক্ত স্থান থেকে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে এই সুযোগে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এই বেআইনি কারবারের সুবিধার্থে তারা স্থানীয় রাস্তা কেটে ফেলছে, যা কেবল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিই করছে না, একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিও ঘটাচ্ছে। তাঁর দাবি, এই লাগাতার অবৈধ কার্যকলাপের ফলে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং সরকারি নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর বৈধ খনন অধিকারও বিরূপভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই কারবার বন্ধ করে জড়িত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শনিবার মঙ্গলকোট ব্লক ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও পুলিশের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটরের চালক এবং তার খালাসিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। মঙ্গলকোট ব্লক ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও পুলিশ গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই পদক্ষেপ অবৈধ বালি মাফিয়াদের প্রতি প্রশাসনের শূন্য সহনশীলতার সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।








