---Advertisement---

Auto Image Slider

জয়ের পরই রণংদেহি মেজাজে বিধায়ক অরুন হালদার, লক্ষ্য জামালপুরের টোল মুক্ত হরেকৃষ্ণ কোনার সেতু

Souris Dey

Published

সৌরীশ দে,জামালপুর: পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ও রায়না বিধানসভা কেন্দ্রের সংযোগস্থল তথা কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত হরেকৃষ্ণ কোঙাড় সেতু। বাম আমলে নির্মিত এই সেতুটি প্রতিদিন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের প্রধান মাধ্যম। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী অরুন হালদার এই সেতুর টোল আদায় নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বছর যাবৎ এই সেতু থেকে টোল আদায় করা হলেও সেই অর্থের সঠিক গতিপ্রকৃতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি বর্তমানে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজেপির জয়ী প্রার্থী অরুন হালদার সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তার খরচ উঠে গেলেও কেন এখনও টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে? তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন যে, সাধারণ মানুষের পরিশ্রমের এই টাকা সরকারি কোষাগারে সঠিক পদ্ধতিতে জমা হচ্ছে কি না। তাঁর মতে, টোল আদায়ের নামে এক বিশাল আর্থিক অনিয়ম চলছে যা বন্ধ হওয়া জরুরি। অরুন হালদার সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পকেটের প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে প্রশাসন বাধ্য। এই সংক্রান্ত নথিপত্র এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে তিনি বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়ে রেখেছেন।

জামালপুরের এই টোল প্লাজাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বহুদিনের। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক এবং ট্রাক চালকদের মধ্যে এই টোল আদায়ের বাধ্যবাধকতা নিয়ে অসন্তোষ ছিলই। অভিযুক্তদের নিশানায় রেখে বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, টোল সংগ্রহের দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি এবং সংগৃহীত অর্থের বিলি-বণ্টন তদন্তাধীন হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনের পরেই তাঁর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হওয়ার নীতি জামালপুরের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত তিনি নিরস্ত হবেন না।

See also  বর্ধমানের শশাঙ্ক বিল ভরাট নিয়ে এবার আন্দোলনে নামলো পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ

অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকারের আমলে এই টোল আদায়ের প্রক্রিয়া কতটা নিয়ম মেনে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দেবে। অরুন হালদারের দাবি অনুযায়ী, সংগৃহীত বিপুল অর্থের পাই-পাই হিসাব জনসমক্ষে না আনা পর্যন্ত এই রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকবে। বর্তমানে জামালপুর ও রায়না অঞ্চলের সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

পরিশেষে বলা যায়, হরেকৃষ্ণ কোঙাড় সেতুর টোল সংক্রান্ত এই বিতর্ক কেবল স্থানীয় কোন্দল নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের পর অরুন হালদার যেভাবে প্রথম দিন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে জামালপুরের রাজনৈতিক ময়দান আগামিদিনে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। টোল আদায়ের আইনি বৈধতা এবং জনস্বার্থ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত এই টোল আদায়ের স্বচ্ছতার প্রশ্নে তদন্তাধীন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---