ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল হকের বিরুদ্ধে খুনের ধারা যোগ করে বুধবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। এক চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারে মৃত্যুর ঘটনায় পলাতক এই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার রাতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। এদিন সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর পর তাকে আদালতে পেশ করা হয়।

পুলিশ সাইদুল হকের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা মামলার সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বি.এন.এস)-এর ১০৩(১) ও ১০৫/৬১(২) ধারা দুটি যোগ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। একইসাথে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতেরও আবেদন জানানো হয়। বি.এন.এস-এর ১০৩(১) ধারা অনুযায়ী, হত্যা বা খুন করার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড সহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ১০৫/৬১(২) ধারাটি মূলত খুনের উদ্দেশ্যে নয় এমন অপরাধমূলক নরহত্যা করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পুলিশের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও টাকার লোভে সাইদুল হক অপারেশন চালিয়েছিলেন, যা একটি গুরুতর অপরাধ।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদনের পরিবর্তে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। সাইদুল হকের আইনজীবী কমল দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, এখনও পর্যন্ত ফরেন্সিক রিপোর্ট আদালতে জমা পড়েনি, যা শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করবে। তিনি বি.এন.এস-এর ১০৩(১) ধারা যোগ করার পুলিশের সিদ্ধান্তকে “টেকনিক্যালি ঠিক হয়নি” বলেও মন্তব্য করেন।

এদিন আদালতে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হক সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। সাইদুল হকের স্ত্রী অলভিয়া হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কিছু বলার নেই, সময় কথা বলবে।” তার বিরুদ্ধে খুনের ধারায় মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেটা কাগজ কথা বলবে। উনি আসল না নকল। সংবাদপত্রেও আমার নামে লেখা হয়েছে আমি নাকি নার্সিংহোমের মালিক, আমি ওনার সঙ্গে দুবাই পালাচ্ছিলাম। এসব মিথ্যা কথা। নার্সিংহোমে যারা বলেছেন আমি অংশীদার, তাদের কাগজপত্র দেখাতে বলুন। আমি কোনোভাবেই কোনো নার্সিংহোমের সঙ্গে জড়িত নই। যা হবে আইনে হবে, এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির পর থেকেই তারা বিষয়টি নজরে রেখেছিলেন। তিনি এই ঘটনার চরমতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং চিকিৎসকদের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, “একজন চার বছরের ফুটফুটে শিশু সামান্য অপারেশনের জন্য চকলেট খেতে খেতে আর বল খেলতে খেলতে ওটিতে গিয়েছিল, তারপর তার নিথর দেহ পেয়েছে তার পরিবার।” তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন।
মন্ত্রীর মতে, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে ভুয়ো শিক্ষক, ডাক্তার, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ারদের রমরমা দেখা গেছে। তিনি বিচার বিভাগের কাছে ভুয়ো চিকিৎসকের চরমতম শাস্তির আবেদন জানান এবং সকল ভুয়ো চিকিৎসক ও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমগুলিকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যথায়, কঠোর স্ক্রুটিনি শুরু হয়ে গেছে এবং দোষীদের ধরা হবে ও জেলে পাঠানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।








