---Advertisement---

Auto Image Slider

বর্ধমানে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের তাণ্ডব, তোলা চেয়ে টাকা না পাওয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: রাতে গহনা কেনার নাম করে দোকানদার কে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালালো বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের ১৫/২০ জনের একটি দল বলে অভিযোগ। লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত ১০.৪৫ মিনিট নাগাদ বর্ধমান শহরের ১৪ নং ওয়ার্ডের সূর্যনগর, জগৎবেড়, পিডব্লুডি অফিসের সামনে। মারাত্মকভাবে জখম রক্তাক্ত সোমনাথ কর্মকার কে স্থানীয় ও তার পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের আক্রমণে সোমনাথ কর্মকারের মুখ, নাক, চোখ, কান সহ শরীরের একাধিক জায়গা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ, হামলাকারীরা সোমনাথ কে প্রাণে মেরে ফেলার জন্যই পরিকল্পনা করে এসেছিল। দুষ্কৃতীদের হাতে লোহার রড, ইট, পাথর এবং তারের চাবুক ছিল বলে সোমনাথ পুলিশ কে জানিয়েছে। সে জানিয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তার কাঁধে আঘাত লাগে। ইট দিয়ে তার মুখ, কান, নাক,পা থেঁতলে দেয় গুন্ডাদের দলবল। তারের চাবুক দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। আঘাতের চোটে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় ও সোমনাথের পরিবারের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বর্ধমান মেডিকেলের চিকিৎসক সোমনাথ কর্মকারের শারীরিক সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানিয়েছেন, আঘাতের চোটে নাক ও নাকের পাশের হাড় ভেঙে যাওয়ায় সার্জারি করার প্রয়োজন, সেকারণে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সোমনাথ কর্মকার জানিয়েছে, ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর থেকেই স্থানীয় বিজেপির কয়েকজন তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। গত ১৮ মে, রাত ১২ টা ১০ নাগাদ এলাকার বাসিন্দা গণেশ দেবনাথ তাকে ফোনে হোয়াটস অ্যাপ কল করে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আরও বলে যে দোকান চালাতে গেলে দেড় লক্ষ (১.৫ লক্ষ) টাকা তাকে দিতে হবে। এমনকি বাড়ির সামনে এসে হুমকিও দিয়ে যায় গণেশ দেবনাথ। এরপর পরের দিন রাত সাড়ে ৯ টা নাগাদ গণেশ ও আরো কয়েকজন মিলে তার ‘কর্মকার জুয়েলারি প্যালেস ‘ দোকানের সিসি ক্যামেরা, এসি ও ইলেকট্রিক মিটার ভাংচুর করে দিয়ে যায়। এব্যাপারে বর্ধমান থানায় ঘটনার পরই লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। যদিও এখনও কোনও সুরাহা পাওয়া যায়নি সেই ঘটনার।

See also  অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে বর্ধমানের দুই পরিবারের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

এদিকে এই মারধরের ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব। এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বিজেপির তিন নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অজয় দত্তের অনুগামী। আক্রান্ত সোমনাথ কর্মকার পুলিশের কাছে করা অভিযোগে স্থানীয় সন্তু নন্দী, রাজেশ নন্দী, পিকলু মন্ডল সহ আরো ১৫/২০ জন এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। জানা গেছে, এদের মধ্যে সন্তু নন্দী ৩ নং মণ্ডলের বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি। পাশাপাশি বর্ধমান জেলা আদালতে ল ‘ক্লার্ক হিসেবে কাজ করে।

যদিও স্থানীয় বিজেপির মন্ডল সভাপতি অজয় দত্তের দাবি, ‘ আমার ওয়ার্ডে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। শুক্রবার রাতে যেটা ঘটেছে সেটা ব্যক্তিগত কোন আক্রোশ থেকে হতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’ অন্যদিকে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানিয়েছেন, ‘মারধর, হামলা, হুমকি এইসব বিজেপির কালচার নয়, দল কোনোভাবেই এইসব অনৈতিক কাজের অনুমোদন দেয়না। সুতরাং যদি কেউ বা কারা অপরাধ করে থাকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---