ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ দিন ধরেই ভোজ্য তেল (রাইস ব্র্যান অয়েল, সর্ষের তেল ইত্যাদি) ‘কাটিং’-এর বেআইনি কারবার চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিককালে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের প্রবণতা বাড়ায় এখন ইথানল ভর্তি ট্যাঙ্কার থেকে তেল চুরির (ইথানল কাটিং) রমরমা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই জাতীয় সড়কের পাশে দাহ্য পদার্থের অবৈধ লেনদেনের কারণে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, খোদ বর্ধমান থানার অন্তর্গত মেটিয়াল ডিভিসি এলাকার বর্ধমান থেকে দুর্গাপুরমুখী সার্ভিস রোডে একটি পানশালার পাশেই অবস্থিত একটি গোডাউনে এই অবৈধ কারবার চলছে। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে এই তেল কাটিংয়ের কাজ হয়। অভিযোগ, এই গোডাউনে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি ইথানল ভর্তি ট্যাঙ্কার থেকে কয়েক হাজার লিটার তেল ‘কাটিং’ করে বের করে নেওয়া হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইটের আলোয় শুনশান গোডাউন এলাকায় চলে এই বেআইনি প্রক্রিয়া।
অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রামে পাইপের সাহায্যে তেল বের করে ভর্তি করা হয়। প্রতি ড্রামে প্রায় ২৪০ লিটার করে ইথানল ভরা হচ্ছে। একটি ট্যাঙ্কার থেকে গড়ে ৬টি করে ড্রামে তেল ভর্তি করে সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর লক্ষাধিক টাকার এই তেল খোলা বাজারে এবং কখনও কখনও বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বেআইনি ভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানার কাঁকোরা এলাকার দুজন ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ইথানল ভর্তি ট্যাঙ্কারগুলো গুসকরার একটি কারখানা থেকে তালিত রোড হয়ে নবাবহাট থেকে দুর্গাপুর মুখী সার্ভিস রোড ধরে মেটিয়াল ডিভিসি মোড়ের কাছের নির্দিষ্ট গোডাউনে পৌঁছায়। প্রতি ট্যাঙ্কার থেকে গড়ে ৬টি ড্রামে তেল কাটিং হয়ে গেলেই ট্যাঙ্কারটি আধ ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গাপুরের দিকে রওনা দেয়। এভাবেই তিন-চারটি ইথানল ভর্তি ট্যাঙ্কার থেকে প্রতিদিন অবাধে তেল কাটিং চলছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলেছে, পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিনের পর দিন রাতের অন্ধকারে কিভাবে এই ধরনের বেআইনি কারবার চলছে? জাতীয় সড়কের ধারে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, কোনো রকম সুরক্ষাবিধি না মেনেই ট্যাঙ্কারগুলো থেকে যেভাবে দাহ্য ইথানল বের করার কারবার চলছে, তাতে যেকোনো সময় বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে। অবিলম্বে এই বিপজ্জনক বেআইনি কারবার বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।








