ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে বর্তমানে দিনে-রাতে হাজার হাজার বালি বোঝাই বেআইনি ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল জনসুরক্ষাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সমস্ত ট্রাক্টরের সিংহভাগেরই নেই ইন্স্যুরেন্স, ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা বৈধ রেজিস্ট্রেশন। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই এই অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিদিনের রোজনামচা হলেও জেলার জনজীবনকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে বলেই অভিযোগ।


জেলার গলসি থেকে বর্ধমান, খন্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর সহ কালনা, কাটোয়া ও একাধিক জায়গায় গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি পর্যন্ত অবাধে চলাচল করছে এই বেআইনি ট্রাক্টরগুলো। বালির পাশাপাশি মাটি, ইট, পাথর সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী বিপজ্জনকভাবে বহন করা হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে জেলা পরিবহন দপ্তর ও ট্রাফিক পুলিশের দিকে, কারণ শহরের রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্ত বেআইনি গাড়ির বিরুদ্ধে কোনও চেকিং বা অভিযান সচরাচর চোখে পড়ে না। ফলে ট্রাক্টর মালিকেরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যদিও মাঝেমধ্যে বিনা চালানের বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটকে জরিমানা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকরা। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্টই নগণ্য বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ।
গ্রামাঞ্চল ও শহরের একাধিক এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ট্রাক্টর গুলোর বেপরোয়া গতির কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকেই। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশকে এড়াতে শহরের সংকীর্ণ গলি ব্যবহার করা হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যেহেতু বেশিরভাগ ট্রাক্টরের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার আইনিভাবে কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবে না।

জেলার একাধিক বালি ঘাটের ইজারাদার একটি গুরুতর ফাঁকফোকরের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, একটি ট্রাক্টরের ইঞ্জিন ও ট্রলি (পণ্য বহনের অংশ) দুটি আলাদা অংশ এবং উভয়ের আলাদা নম্বর থাকা উচিত। কিন্তু লোডিংয়ের সময় ইঞ্জিনের চেসিস নম্বর ব্যবহার করা হলেও, বালি বোঝাই করা হয় ট্রলিতে। এক্ষেত্রে ট্রলির বৈধতা যাচাই হয় না। অভিযোগ উঠেছে যে ৮০ শতাংশ ট্রাক্টরের ট্রলিতে কোনও নম্বর প্লেটই থাকে না। সড়ক পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্রও হয় মেয়াদ উত্তীর্ণ, নয়তো সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে – পুলিশ, পরিবহন দপ্তর এবং ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের এই বেআইনি পরিবহন ব্যবস্থা রুখতে চরম উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাক্টর মালিকেরা মনে করেন, নদী ঘাট থেকে বৈধ চালান নিয়ে বালি পরিবহন করলেই সমস্ত নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে, অথচ যে গাড়িতে বালি বহন করা হচ্ছে, সেটির বৈধতা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এই ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’-র ফলেই জনজীবন ও সরকারি রাজস্ব উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








