ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভার চব্বিশ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হতে না হতেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জামালপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনসভায় ভিড় এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক চর্চাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই এক বিশাল বাইক র্যালি করে ময়দান কাঁপাল ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির সভার একাধিক খালি চেয়ারের ছবি নিয়ে, আর তার ঠিক পরেই তৃণমূলের এই জনজোয়ার শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন হালারা বিপত্তারিণীতলা থেকে মিছিলের সূচনা হয় এবং আটপাড়া সমবায় স্টোর হয়ে বাঁধের রাস্তা ধরে জামালপুর পর্যন্ত এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই বিশাল বাইক বাহিনী।

এদিনের এই বাইক র্যালিতে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। মিছিল চলাকালীন রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় দোকানদার থেকে শুরু করে পথচলতি সাধারণ মানুষ—সকলকেই হাত নেড়ে জামালপুরের তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাতে দেখা যায়। গাড়িতে থেকে জনসংযোগ সারেন বর্ধমান-পূর্বের সাংসদ, ব্লক সভাপতি ও স্বয়ং প্রার্থী। কখনও করজোড়ে প্রণাম, আবার কখনও হাত নেড়ে মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তাঁরা। বাজনার তালে তালে কর্মীদের নৃত্য আর স্লোগানে এদিন গোটা এলাকা এক উৎসবমুখর পরিবেশের রূপ নেয়, যা রাজনৈতিক গুরুত্বের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মিছিলে উপস্থিত থেকে বর্ধমান-পূর্বের সাংসদ ডা. শর্মিলা সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাকে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, জামালপুরে মেহেমুদ খাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত যেকোনো কর্মসূচিই জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আজকের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে জামালপুরের মানুষ ভূতনাথ মালিকের উপরেই আস্থা রাখছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলের থেকেও এবার জয়ের ব্যবধান অনেক বেশি হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খাঁন বিজেপির ‘সোনার জামালপুর’ গড়ার প্রতিশ্রুতিকে বিঁধে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই এই রাজ্যকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর মতে, জামালপুরে বিরোধীদের কোনো সুসংহত সংগঠন নেই এবং এখান থেকে তৃণমূল প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী প্রার্থী ভূতনাথ মালিক এদিনের মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আপ্লুত। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, জামালপুরের মানুষ সবসময় উন্নয়নের পাশে আছেন এবং তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুনরায় ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করবেন। মানুষের এই নিরন্তর ভালোবাসা আর সমর্থনই নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁর প্রধান হাতিয়ার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের সভার পরের দিনই তৃণমূলের এই মহাসুনামি সদৃশ বাইক র্যালি জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিজেপির সভার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে তৃণমূলের এই বিশাল শক্তি প্রদর্শন লড়াইয়ের ময়দানে শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।








