ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানে চিকিৎসার গাফিলতিতে চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। রবিবার নবাবহাটের ‘লাইফ কেয়ার’ নার্সিংহোমের দুই কর্ণধার আনিসুর মণ্ডল ও শেখ সুরোজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গত ২ সেপ্টেম্বর, নবাবহাটের এই নার্সিংহোমেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশু অরণ্য রায়ের। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় চরম গাফিলতিই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ। মৃত শিশুর মা শিল্পা রায় অভিযুক্ত জাল চিকিৎসক সাইদুল হক সহ কয়েকজন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল জানতে পারে যে, অভিযুক্ত চিকিৎসক সাইদুল হকের এমবিবিএস সার্টিফিকেট জাল। ইতিমধ্যেই রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের তরফেও এই বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। যদিও নার্সিংহোমের দুই কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত জাল চিকিৎসক সাইদুল হক এখনও পলাতক। এর আগে এই ঘটনায় কৌশিক দত্ত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার পর মৃত শিশুর মা-কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ও অশ্লীল ছবি তৈরি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ হুগলি থেকে আসাদুল মল্লিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বাড়ি হুগলির হরিপাল থানার অন্তর্গত মধুপুর গ্রামে। গ্রেপ্তার হওয়া নার্সিংহোমের দুই কর্ণধারকে আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করে দশ দিনের পুলিশী হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ পলাতক জাল চিকিৎসকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।








