ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক: আজ দেশজুড়ে পালিত হবে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। এই দিনে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় সুখ-সমৃদ্ধির কামনায়। কিন্তু দেবী লক্ষ্মী ঘিরে কিছু চিরন্তন প্রশ্ন ভক্তদের মনে প্রায়শই ঘুরপাক খায়—যেমন, কেন দেবী নারায়ণের পদসেবা করেন, বা নিশাচর পেঁচাই কেন তাঁর বাহন? এই প্রশ্নগুলির উত্তর লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তাৎপর্যের মধ্যে, যা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অমৃতবাণী এবং প্রাচীন শাস্ত্রের ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট।

রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়শই বলতেন, “তোমাদের চৈতন্য হোক।” এই ‘চৈতন্য’ অর্থাৎ শুদ্ধ আত্মিক জ্ঞান তখনই লাভ হয়, যখন মন ভগবানের চরণে অর্থাৎ ইষ্টের প্রতি সমর্পিত থাকে। যিনি সৎ, চিৎ ও আনন্দময় চৈতন্যস্বরূপ, তাঁর মনে সদা আনন্দ বিরাজ করে। এমন শুদ্ধ আত্মার কাছে দেবী লক্ষ্মী বাঁধা থাকেন, অর্থাৎ তাঁর জীবনে কোনো অভাব থাকে না। তাই দেবী লক্ষ্মীর নারায়ণের পদসেবার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর তত্ত্ব—বিষ্ণু বা কৃষ্ণ হলেন সেই সৎ, চিৎ ও আনন্দ অর্থাৎ চৈতন্যস্বরূপ। জগৎ পালক শ্রী বিষ্ণুর জগৎ পালনের কাজে দেবী লক্ষ্মী সহায়িকা, তাই তিনি চৈতন্যরূপী ভগবানের চরণে বাঁধা থাকেন। এর অর্থ কোনো অসম্মান নয়, বরং শুদ্ধ জ্ঞান ও পরম সত্তার প্রতি ঐশ্বর্যের ঐকান্তিক নির্ভরতা।
দেবী লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা কেন? এই প্রশ্নটিও বহু মানুষের মনে কৌতূহল জাগায়। ঋগ্বেদ অনুযায়ী, পেঁচা মৃত্যুর দেবতা যমের দূত। যম আবার ধর্মরাজ নামেও পরিচিত, যিনি সংযম ও ধর্মের প্রতীক। তাই লক্ষ্মী দেবীর বাহন হিসেবে পেঁচা ধনোপার্জনের ক্ষেত্রে সংযমবুদ্ধি ও ধর্মীয় চেতনা বজায় রাখার বার্তা দেয়। এটি একইসাথে মানুষকে যমদূতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—যেমনভাবেই ধন উপার্জন করা হোক না কেন, তা যেন অবশ্যই সৎ পথে হয়।

অন্যথায়, অধর্মকারীকে শাস্তি দিতে যমরাজ সর্বদা প্রস্তুত। মৃত্যু কারো জন্য অপেক্ষা করে না; তাই মৃত্যুকে স্মরণ করে মানুষকে সৎ পথে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়েও চিন্তা করার জন্য পেঁচা প্রতীকীভাবে অনুপ্রাণিত করে। সুতরাং, লক্ষ্মী পুজো কেবল ধন-সম্পদের আরাধনা নয়, বরং এটি চৈতন্য লাভ, নৈতিক সংযম এবং ধর্মীয় চেতনার এক গভীর বার্তা বহন করে।








