ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারী: পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী থানার অন্তর্গত মধ্য পাল্লা এলাকায় দামোদর নদে স্নান করতে নেমে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে চার বন্ধু মিলে স্নান করতে নেমে অর্ণব ব্যানার্জী নামক এক কিশোর নদীতে তলিয়ে যায়। ওই কিশোর মেমারী থানারই ছিনুই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১২টা নাগাদ চার বন্ধু মিলে ছিনুই থেকে মধ্য পাল্লা এলাকায় এদিন ওরা দামোদর নদে স্নান করতে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ অর্ণব জলের মধ্যে হারিয়ে যায়। সঙ্গীদের আর্তনাদে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও গ্রামবাসীরা ছুটে আসলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।


ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত খবর দেওয়া হয় মেমারী থানায়। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে খবর দেন। এদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নিজেদের জাল ফেলে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস খোঁজাখুঁজির পর মৎস্যজীবীদের জালে ওই কিশোরের দেহ আটকে পড়ে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অর্ণবকে উদ্ধার করে দ্রুত মেমারী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ডুবুরিরা নামার আগেই স্থানীয়দের তৎপরতায় দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অর্ণবের সঙ্গে আসা বাকি তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গিয়েছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তাধীন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দামোদরের এই বিপদজনক পাড়ে প্রশাসনের তরফে কোনও নিষেধাজ্ঞার বোর্ড বা নজরদারির ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর জলস্তর ও খানাখন্দ সম্পর্কে অপরিচিতদের সম্যক ধারণা না থাকার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।








