ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,আউশগ্রাম: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যখন উৎসবের আমেজে চলছে, ঠিক সেই সময়েই পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের পুবার গ্রামের ২৪ নম্বর বুথের সামনে থেকে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। সারা রাজ্যে যখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে মানুষের ঢল নেমেছে, তখন সেখানে দেখা গেল এক চরম বৈপরীত্য। জীবনের ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা মহম্মদ শহিদুল্লা শেখ নামক এক ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ এবার ভোট দিতে না পেরে বুথের বাইরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি স্বচ্ছন্দে নিজের অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন, কিন্তু ২০২৬-এর এই গুরুত্বপূর্ণ লগ্নে এসে হঠাৎই তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। হাতে বৈধ ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বুথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রত্যক্ষদর্শীদেরও ব্যথিত করে তুলেছে।


শহিদুল্লা শেখের এই দুর্দশা নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জানা গিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট বুথ এলাকায় তাঁর মতো আরও প্রায় কুড়ি জন ভোটার একই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। এই তালিকায় যেমন নবীন ভোটাররা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন প্রবীণ ও মধ্যবয়সী নাগরিকরাও। বৈধ পরিচয়পত্র ও পূর্ববর্তী ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁদের কাউকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে ওই ২০ জন ভোটার বুথের বাইরেই একপ্রকার মৌন অবস্থানে বসেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ ও হতাশার ছাপ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটার তালিকায় এমন ব্যাপক অসঙ্গতি নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রুদ্ধকণ্ঠে শহিদুল্লা সাহেব সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান যে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি এই পবিত্র কর্তব্য পালন করেছি। আজ কেন নির্বাচন কমিশন আমার এই অধিকার কেড়ে নিল, তার কোনো সদুত্তর নেই। নিজেকে বড্ড বেশি অসহায় ও ব্রাত্য মনে হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রশাসনিক উদাসীনতা এভাবে একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সংকল্প নিয়েছেন। আউশগ্রামের এই চিত্রটি আদতে উৎসবের আলোর নীচেই যেন এক অন্ধকার দিককে ফুটিয়ে তুলেছে। নির্বাচনের এই চূড়ান্ত লগ্নে কমিশনের এমন নজরদারি ও প্রস্তুতির অভাব আগামী দিনে বড়সড় বিতর্কের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।








