ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। বিশেষত, ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা এবং ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ভোটকর্মীদের ডিসিআরসি থেকে বুথে নিয়ে যাওয়া এবং ভোট গ্রহণ শেষে পুনরায় ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকার ডিভাইস লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যাতায়াতের পথে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়ম রোধ করাই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে ২৭ এপ্রিল থেকেই গাড়িগুলিতে এই আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বর্ধমানের ইউআইটি সংলগ্ন ডিসিআরসি সেন্টারে ২৮ এপ্রিল সকাল থেকেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি থেকে শুরু করে সেক্টর অফিসার ও ভোটকর্মীদের বহনকারী যানবাহন—সবকিছুই এখন কমিশনের সরাসরি নজরদারির আওতায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি গাড়ির বর্তমান অবস্থান রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রযুক্তির এই ব্যবহার অপরিহার্য।

এই ট্র্যাকিং ডিভাইসটি মূলত একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র যা গাড়িতে সংস্থাপনের পর একটি নির্দিষ্ট সিম কার্ডের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়। ডিভাইসের গায়ে থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। সেখানে গাড়ির নম্বর, চালকের নাম এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত থাকছে। ফলে কোনো গাড়ি যদি নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে বা কোনো জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ভোট প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনী সরঞ্জাম চুরির বা কারচুপির আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২৯০০ গাড়িতে এই জিপিএস ডিভাইস লাগানো হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যখন ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে স্ট্রং রুমের দিকে গাড়িগুলো রওনা দেবে, তখন প্রতিটি সেকেন্ডের আপডেট ট্র্যাক করা যাবে। কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা পথ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠাতে এই জিপিএস ট্র্যাকিং সহায়ক হবে। ইভিএম বহনকারী গাড়ির রুট ম্যাপ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে এবং এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ম্যাপের লঙ্ঘন ধরা পড়বে তৎক্ষণাৎ। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং জনমানসে আস্থা ফেরাতে এই কড়া নজরদারি এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে হাতিয়ার করে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া উপহার দিতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরণের কঠোর নজরদারি অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও নিরাপত্তার দাবিকে মান্যতা দিয়েই কি এই পদক্ষেপ? প্রশ্ন থাকলেও, জনমনে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল পরিমাণ তথ্য ও জিপিএস ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে কমিশন ভোট পরবর্তী বিতর্ক কতটা এড়াতে সক্ষম হয়। তবে আপাতত বর্ধমানসহ রাজ্যের ভোটকেন্দ্রগুলোতে এই কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত বলয় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।








