ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্বকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার একাধিক বুথে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করেছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভোটদান প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিবর্তে বাহিনীর বিরুদ্ধে অযাচিত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা।


বিশেষত জামালপুরের ১৮৮ ও ১৮৯ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই নির্দিষ্ট বুথগুলিতে লাইন দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হয়েছে। অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভোটারদের হাতে থাকা পরিচয়পত্র ও নির্বাচনী স্লিপ কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বুথ চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই মারধরের চোটে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, তবে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেখানে বাহিনীর ওপর ন্যাস্ত, সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধেই এহেন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক অস্বস্তি বেড়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হলেও, এলাকায় চাপা উত্তেজনা এখনও বিরাজমান। নিগৃহীত ভোটাররা যথাযথ বিচার এবং নির্বিঘ্নে ভোটদানের অধিকার পুনরায় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গণতান্ত্রিক এই মহোৎসবে নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষকে নিগ্রহ করার ঘটনাটি সুশীল সমাজেও নিন্দিত হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। জামালপুরের এই ঘটনা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলে কিনা এবং কমিশন দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই অশান্তি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে আরও একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।








