ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, গলসি : পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার অন্তর্গত সাঁকরাই গ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ল চরম সীমায়। গত রাত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির দুই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কলহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড এর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গ্রামের ৩৪ নম্বর বুথের এজেন্ট শেখ হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, ৩৩ নম্বর বুথ সভাপতি শেখ কিসমত আলি এবং বুথ এজেন্ট শেখ বসির আহম্মেদের বাসভবনে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে এসেছে দলেরই আদি বিজেপি নেতা কাজী সাবির আলি ও তাঁর অনুগামীদের নাম। এই ঘটনার জেরে বর্তমানে গোটা গ্রাম থমথমে হয়ে রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

রাত আনুমানিক একটা নাগাদ এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। অভিযোগকারী শেখ হাবিবুল্লাহর মতে, কাজী সাবির আলির নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং বাড়ির জানলার কাচ থেকে শুরু করে ছাদের অ্যাসবেসটাস ও সরকারি নলকূপ পর্যন্ত ভাঙচুর করে। শুধু ভাঙচুরই নয়, ওই সময় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয় বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে গভীর রাতেই গলসি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা এখনও বিরাজমান।
অন্যদিকে, কাজী সাবির আলির স্ত্রী কাজী সাবানা ইয়াসমিন পালটা অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিনের জেলাস্তরের বিজেপি নেতা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক আগে দলে আসা একদল নব্য বিজেপি সমর্থক অন্যায়ভাবে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, শেখ তপন ও শেখ বসিরের পরিবারের মহিলারা তাঁদের মারধর করেছেন। এছাড়া বিজেপি সমর্থক দীনবন্ধু মাঝির বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ দীনবন্ধু বাবু। তাঁর বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এই মুহূর্তে গলসি থানার পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। গ্রামজুড়ে পুলিশি প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে এই ধরণের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টি করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।








