ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বিশ্বজুড়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের বাজার মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এই সংকটের ঢেউ এসে লেগেছে ভারতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরপরই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের জ্বালানি অপচয় রোধ করতে ও সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমানোর কঠোর নির্দেশ জারি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কার্যকর করতে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূম জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের। এই বৈঠকে অংশ নিতে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল এবং পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা নিজেদের পৃথক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিলাসিতা বর্জন করেন। প্রশাসন ও পুলিশ আলাদাভাবে তাঁরা দুটি মাত্র বেসরকারি লাক্সারি বাসে চড়ে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি কাজের জন্য বিপুল সংখ্যক গাড়ির ব্যবহার ও জ্বালানি খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং সরকারি স্তরে তেলের অপচয় কমিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই সাহসী পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য রাজ্যের আমলাতন্ত্রের জন্যও এক অনন্য অনুসরণের পথ তৈরি করল।








