ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক আবহাওয়া আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ধুলুক গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশের ক্ষোভপ্রকাশের ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করল গেরুয়া শিবির। দলের প্রথম সারির বিধায়ক তথা জাতীয় তপশিলি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরুণ হালদার-এর সমর্থনে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয় জামালপুরে। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে প্রচুর দলীয় কর্মী-সমর্থক এই মিছিলে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হন।

উত্তেজনার সূত্রপাত ও আদিবাসী অসন্তোষ এর শুরু গতকাল। পাঁচড়া পঞ্চায়েতের ধুলুক গ্রামের বেশ কিছু আদিবাসী মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদার এবং স্থানীয় ১ নং মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তাঁদের অবমাননা করা হয়েছে এবং অশালীন সম্বোধন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পরই আজ পাল্টা প্রতিরোধে গেরুয়া শিবির বিশাল মিছিল করে শক্তি প্রদর্শন করে।এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে জামালপুর ১ নং মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র মন্ডল। তার নেতৃত্বেই এদিন এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি হালারা বিপত্তারিণী তলা থেকে শুরু হয়ে গোটা জামালপুর বাজার পরিক্রমা করে বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে মণ্ডল সভাপতি প্রধান বাবু তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যে জামালপুরকে একসময় তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড় বলে মনে করা হতো, সেখানে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতায় পদ্ম ফুটিয়েছেন অরুণ বাবু। তিনি কোনো সাধারণ জনপ্রতিনিধি নন, জাতীয় স্তরে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতীয় তপশিলি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সর্বদা পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এমন কুৎসাজনক অপপ্রচার আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।”
অন্যদিকে সামগ্রিক ঘটনার ও বিতর্কের প্রেক্ষিতে নীরবতা ভেঙেছেন খোদ বিধায়ক অরুণ হালদার। এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় তিনি দাবি করেন, “আমার কাজের গতি রোধ করতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। আমি এখনও পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরুই করতে পারলাম না, তার আগেই এই ধরনের নোংরা পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, যাঁরা বা যে সমস্ত গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসা অগণিত কর্মী-সমর্থককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি অনুরোধ করেন, “আমার সমর্থনে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আপনাদের আবেগকে কুর্নিশ করি। তবে এই প্রতিবাদের কারণে যেন সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।”








