---Advertisement---

Auto Image Slider

গলসিতে চালকলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই কোটি কোটি টাকার ধান-চাল ও যন্ত্রাংশ

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, গলসি: পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে একটি চালকলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার ধান, চাল, ব্রান, বস্তা এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আর এস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের এই চালকলে বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ আচমকা আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চালকলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়লে ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

দমকলের প্রাথমিক অনুমান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চালকলের গুদাম এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেয়। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেয়। এরপর দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। প্রায় দু’ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আসে।

চালকল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর এস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ-এর পার্টনার অপূর্ব কুমার পাল জানান, দুপুর ১২টা নাগাদ হঠাৎ আগুন লাগে। কিভাবে আগুন লাগল, তা সঠিকভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে চাল, ধান, ব্রান, এবং সমস্ত মেশিনপত্র পুড়ে গেছে, যা থেকে আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দোলন দত্ত, সঞ্জয় মেটে, রাজকুমার কেস জানান, আচমকা আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া দেখে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদেরও প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। অপূর্ব পাল বলেন, “মিলের ভিতরে প্রচুর ধান ও চাল মজুত ছিল। সবকিছু পুড়ে গেছে। বহু টাকার ক্ষতি হয়েছে।” অপর এক বাসিন্দা রাজকুমার কেস বলেন, “হঠাৎ দেখি বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ দপ্তরে ফোন করে জানতে পারি আর এস মিলে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি চাল ও ধানের গুদাম দাউদাউ করে জ্বলছে।”

See also  বর্ধমানে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা, পূর্ব বর্ধমানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিদর্শনে রাজ্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন গলসি থানার ওসি কৃপাসিন্ধু ঘোষ এবং গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র। বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, “বিপদের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছি। এখানে এসে আগুনের শিখা দেখে খুব খারাপ লাগছে। মা লক্ষ্মী পুড়ে যাচ্ছে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে। দমকল কর্মীরা প্রচুর খেটে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন। গলসি থানার পুলিশও ভালো সহযোগিতা করেছে। এলাকার মানুষ সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, চালকলের পাশেই ইন্ডিয়ান অয়েলের পাইপলাইন থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ে, তবে সকলের সদর্থক ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---