---Advertisement---

Auto Image Slider

এতদিন হুঁশ ছিলনা রেলের, টনক নড়তেই লাইন পারাপার আটকাতে লোহার পাতের বেড়া, রায়নায় ব্যাপক সমস্যা কয়েক হাজার কৃষক

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,রায়না: ভারতীয় রেলের দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার একটি কঠোর পদক্ষেপে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-১ ব্লকের হাজার হাজার কৃষক আমন ধান চাষের শুরুতেই এক বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন। রামকৃষ্ণপুর, ক্ষেমতা, চণ্ডীপুর, বুড়োল, তেরালি, গোপীনাথপুর, সেহারাবাজার-সহ মোট আটটি গ্রামের চাষিরা এখন চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়া-মশাগ্রাম রেলওয়ে শাখার রামকৃষ্ণপুর এলাকায় একটি ঢাল (পারাপারের পথ) ব্যবহার করে এলাকাবাসী রেললাইনের অপর প্রান্তে অবস্থিত হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি, একটি গ্রামীণ শ্মশান এবং একটি খেলার মাঠে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবিতে রেলের বিভিন্ন দপ্তর এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) একটি দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ঢালটি বন্ধ করতে রেলের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রথমে এলাকার কৃষকেরা বাধা দিলে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রায়না-১ ব্লকের বিডিও, রায়না থানার ওসি-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। পরে প্রশাসন, কৃষক ও রেল কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে কৃষিকাজের স্বার্থে একটি অস্থায়ী সমাধানের পথ বের করা হয় বলে কৃষকরা দাবি করেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেলের আধিকারিক ও রেল পুলিশ ওই ঢালটি কংক্রিটের মাধ্যমে লোহার পাত বসিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন। এরপরই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন এলাকার হাজার হাজার চাষি। বর্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ আমন ধান চাষের সময়ে কীভাবে কৃষিজমিতে পৌঁছে চাষের কাজ করবেন, তা নিয়েই গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রায়না বিধানসভার বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি রেল আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। বিধায়ক জানান, খুব দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি রেলের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন এবং কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

See also  বর্ধমানে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ভাঙচুর, ফের প্রকট তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

কৃষকদের দাবি, এই ঢালটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিজমিতে যেতে হবে। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হবে না, বর্ষার এই মরসুমে কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, সাথে অনেকটাই খরচ বাড়বে। ফলে চাষের ভবিষ্যৎ এবং জীবিকা—দুই নিয়েই এখন গভীর উদ্বেগে এলাকার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। আমন ধানের চাষ না করতে পারলে কার্যত বেশিরভাগ চাষিদের মাথায় হাত পড়বে। তাই চাষীরাও রেল দপ্তরের সদর্থক ভূমিকার আশায় অপেক্ষা করছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---