ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাবের পর বুধবার সকাল থেকে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে বর্ধমানের একাধিক নামকরা মিষ্টি দোকানে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে প্রায় ১৪ কেজি খাবার অযোগ্য পনির এবং বেশ কয়েক কেজি ছানা নষ্ট করা হয়েছে। এর ফলে জেলার খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিষ্টির গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেহজনক ঘিয়ের শিশিও পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন আধিকারিকরা।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাবে অভিযানের পর এবার বর্ধমান শহরের ব্যস্ত এলাকায় বেশ কিছু নামী মিষ্টির দোকানে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বর্ধমান পুরসভার সামনে এবং বুড়ির বাগান মোড়ের কাছে থাকা মিষ্টির দোকানগুলিতে মূলত পনিরের মান পরীক্ষা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের রাসায়নিক পরীক্ষায় পনিরগুলিকে খাবার অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, রানিগঞ্জের একটি বাজারে এরারুট মেশানো ছানা উদ্ধার করে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তর, ডিস্ট্রিক্ট ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং বর্ধমান থানার পুলিশ সদস্যরা। মিষ্টি তৈরির কারখানাগুলিতেও তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ এবং কারখানার পরিবেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি নজরে আসে আধিকারিকদের।
মেয়াদ উত্তীর্ণ বা গুণগত মানে ত্রুটি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের মুচলেখা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে বর্ধমানের দুই মিষ্টি ব্যবসায়ী দিলীপ ভকত ও সোমনাথ সেন দাবি করেছেন যে, তাদের দোকানে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি, তবে পনির ও ছানায় ত্রুটি ছিল। সরকারি গাইডলাইন সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না বলেও জানান এবং আগামী দিনে সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ধমানে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মিষ্টি, পনির, ছানা কিনতে আসেন। তাঁদের কাছে সঠিক গুণগত মানের খাবার পৌঁছে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।








