সৌরীশ দে, বর্ধমান: রাখীবন্ধন উৎসবে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল বর্ধমান শহরে। চিরচেনা ভাই-বোনের ভালোবাসার বাঁধনের পাশাপাশি এবার গাছের গায়েও পরানো হলো রাখী, যার মাধ্যমে দেওয়া হলো প্রকৃতি রক্ষার এক সুদৃঢ় বার্তা। বর্ধমান শহরের জেলখানা মোড় উৎসব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিনব রাখীবন্ধন উৎসব পরিবেশ সচেতনতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উৎসব কমিটির এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে মানুষের হাতে রাখী পরানোর পাশাপাশি বৃক্ষকেও এই বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও গভীর করতেই তাদের এই বিশেষ উদ্যোগ। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সুনীল বরণ ঘোর, আবীর চ্যাটার্জী সহ সংগঠনের বহু কর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ।

উদ্যোক্তা আবীর চ্যাটার্জী বলেন, “আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রকৃতির প্রতি মানুষের সচেতনতা ক্রমশ কমছে। অথচ গাছ, জল এবং সামগ্রিক পরিবেশ ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্ব কার্যত অসম্ভব। তাই মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক রাখীবন্ধন উৎসবকে বেছে নেওয়া হয়েছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতিকে রক্ষাবন্ধনের বাঁধনে বাঁধতে চেয়েছি।”
শুধুমাত্র গাছের গায়ে রাখী পরিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেননি আয়োজকরা। সাধারণ মানুষকেও রাখী পরিয়ে পরিবেশের সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের কথায়, যে গাছ মানুষকে অক্সিজেন, ছায়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য দেয়, সেই গাছের প্রতি মানুষেরও অপরিহার্য দায়িত্ব রয়েছে।
এই অনুষ্ঠান থেকে জল সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উঠে আসে। অকারণে কল খুলে রেখে জল নষ্ট করা কিংবা কল থেকে জল পড়তে দেখেও তা বন্ধ না করার মতো অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য আবেদন জানানো হয়। জল যে জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, সেই বিষয়টিই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি, শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। রাস্তার যেখানে-সেখানে খাবারের প্যাকেট বা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানানো হয়। এর লক্ষ্য, একটি পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত বর্ধমান শহর গড়ে তোলা। এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা লাভ করেছে। রাখীবন্ধনের এই দিনে গাছের গায়ে বাঁধা রাখী যেন প্রকৃতি রক্ষার মানব দায়িত্বকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল।








