---Advertisement---

Auto Image Slider

সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজসেবার স্বীকৃতি, ‘সুকান্ত স্মৃতি সম্মান’-এ সম্মানিত দেবরাজ সাহা

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কলকাতা: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘সুকান্ত স্মৃতি সম্মান’-এ সম্মানিত করা হলো প্রখ্যাত সমাজসেবী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাহিত্যসচেতন ব্যক্তিত্ব দেবরাজ সাহাকে। সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের এবং নিরলস কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবেই এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে এই সম্মান প্রাপ্তি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে জানান দেবরাজ সাহা।পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা (পশ্চিমবঙ্গ)-এর সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী দেবরাজ সাহার হাতে ‘সুকান্ত স্মৃতি সম্মান’ তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

সম্মাননা গ্রহণের পর দেবরাজ সাহা তাঁর বক্তব্যে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন, সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন এবং বর্তমান সময়ে তাঁর চিন্তাভাবনার প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশ-সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য কেবল কবিতা পড়া শেখায় না, বরং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হতেও শেখায়। এই সম্মাননা তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে চান।

পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের কর্ণধার চন্দ্রনাথ বসু দেবরাজ সাহার প্রশংসা করে বলেন, “দেবরাজ সাহার সংস্কৃতিচর্চা, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং সাহিত্য নিয়ে তাঁর নিরন্তর ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা এবং সাহিত্যকে সমাজের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার যে প্রচেষ্টা তাঁর মধ্যে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সাহিত্যসাধনার জগতে দেবরাজকে আমরা একজন উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় নক্ষব্দ হিসেবে দেখতে চাই। আগামী দিনে তাঁর কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা প্রত্যাশা করি।”

See also  পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে বর্ধমানে কন্টেইনমেন্ট জোনের উল্টো দিকেই খোলা মুদিখানা, চাঞ্চল্য

উল্লেখ্য, এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের পক্ষ থেকে দেবরাজ সাহা একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাহিত্য ও সৃজনশীল ভাবনার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কথা তুলে ধরাকে তিনি নিজের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই দেখেন। সম্মাননা গ্রহণের পর দেবরাজ সাহা বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও নিরন্তর উৎসাহ। সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের জন্য যতটুকু করতে পেরেছি, তা খুবই সামান্য। সাহিত্যেও আমি এখনও পথচলার শিক্ষার্থী। তবে মানুষের পাশে থাকতে চাই, মানুষের কথা, সমাজের কথা এবং সময়ের কথা লিখতে চাই।”

অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় বর্তমান সময়ে সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য ও আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, সামাজিক সচেতনতা এবং দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরিতে তাঁর সাহিত্য কীভাবে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে, সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দেবরাজ সাহার এই সম্মাননা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সাহিত্য ও সমাজসেবাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাঁর প্রচেষ্টারও একটি স্বীকৃতি। এই সম্মান আগামী দিনে তাঁকে আরও বৃহত্তর পরিসরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---