---Advertisement---

Auto Image Slider

সেটিং নাকি মাফিয়ারাজ! বর্ধমানের জুজুটি, বেলাকাশ এলাকায় দামোদর নদ থেকে চলছে দেদার বালি চুরি

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঘোর বর্ষাতেই দামোদর নদ থেকে বালি চুরির বিরাম নেই। নদীতে জল থাকায় বালি চুরি করতে গিয়ে দুষ্কৃতীরা খোদ নদীর পাড় কেটেই হওয়া করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয়ে অম্রুত জল প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গলসি থানার অন্তর্গত জুজুটি এলাকায় দামোদর নদ থেকে প্রতিদিন বেপরোয়া ভাবে বালি চুরি করে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, স্থানীয় শাসক দলের একাংশের প্রত্যক্ষ মদতে ধরমপুর, কুমারপুর, বর্ধমানের বেলকাশ সহ গলসি থানার অন্তর্গত জুজুটি পর্যন্ত চলছে নদীর পাড় কেটে বালি চুরি। ফলে প্রতিদিন জলের ধাক্কায় ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ডাঙ্গা। লুট হচ্ছে সরকারি রাজস্ব। গভীর সংকটে পড়তে চলেছে অম্রুত জল প্রকল্পের ভবিষ্যত।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ, স্থানীয় কিছু বালি মাফিয়া প্রতিদিন ভোর রাত থেকে বালি চুরি করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বর্ধমানের বেলকাশ পঞ্চায়েতের অধীন রাস্তা ধরে উদয়পল্লি, কাঞ্চননগর, রথতলা হয়ে আবার কখনও ইদিলপুর হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসনের নাকি নজরেই নেই এই অনিয়ম! স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পরিবেশবিদ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীরা। যদিও এই বেআইনি বালি কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের ‘ সেটিং ‘ থাকতে পারে বলেও এলাকার অনেকেই দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটে রাজ্যে শাসকের পালাবদলের পর এই এলাকায় বালি চুরি কিছুদিন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় শাসক দলের উঠতি কিছু নেতার মদতে ফের নদী থেকে বালি চুরির কারবার শুরু হয়ে গেছে বলেই অভিযোগ এলাকাবাসীদের একাংশের। নদীর নিচ থেকে পাড় লাগোয়া অংশ বেলচা দিয়ে কেটে সেখান থেকে বালি চুরি করে ট্রাক্টরে করে এনে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রেখে দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পরে সেই বালি ট্রাক্টরে করে কখনও জোড়াবাঁধ দিয়ে উদয়পল্লি, কাঞ্চননগর, রথতলা হয়ে, আবার কখনও নলা গ্রামের ভিতর দিয়ে সোজা জাতীয় সড়কে উঠে পাচার করে দিচ্ছে মাফিয়ারা।

See also  বর্ধমানে বাসে উঠতে গেলেই পড়তে হবে মাক্স, নির্দেশিকা জারী করল জেলা প্রশাসন

স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের আরও অভিযোগ, বর্ধমান পুরসভা এলাকায় পরিস্রুত পানিও জল সরবরাহের জন্য আম্রুত প্রকল্পের জল যেখান থেকে আসছে, অর্থাৎ বেলকাশ ও জুজুটির কাছে পরিত্যক্ত রেল ব্রিজের নিচ থেকেও বালি মাফিয়ারা দেদার বালি কেটে ফাঁক করে দিচ্ছে। ফলে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জল প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়েই প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। আগেও এই এলাকায় বালি চুরির অভিযোগ জানিয়েছিলেন খোদ বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার। প্রশাসনিক পর্যায়ে অভিযানও চালানো হয়েছিল সেই সময়। কিন্তু তারপরেও চুরি বন্ধ হয়নি কোনো অজ্ঞাত কারণে। পরেশচন্দ্র সরকার কে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ” অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হবে।” 

এদিকে প্রতিদিন কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই  ভোর রাত থেকে বালি বোঝাই ট্রাক্টর শহরের উদয়পল্লী, কাঞ্চননগর, রথতলা হয়ে যাতায়াত করলেও, এই অবৈধ কারবার বন্ধের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়না বলেই অভিযোগ। অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, আগে বর্ধমান থানার রাত্রিকালীন নজরদারি ভ্যান বা এলাকায় সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন থাকত এই বালি চুরি চক্রের দাপাদাপি বন্ধ করতে। কিন্তু এখন সেই সবের কিছুই দেখা যায়না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে অবৈধ ভাবে বালি নিয়ে যাওয়ার কারণে। অভিযোগ, এই বালি চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িতরা বেশিরভাগই উদয়পল্লি, রথতলা, কাঞ্চননগর, জোড়াবাঁধ সহ ধরমপুর, কুমারপুর, বেলকাশ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, রীতিমত পুলিশ ও স্থানীয় শাসক দলের একাংশের সঙ্গে ‘ সেটিং ‘ করেই চলছে এই বালি চুরি চক্র।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---