ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,শক্তিগড়: ফের একটি বড়সড় মাদক পাচারের ছক ভেস্তে দিল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার পুলিশ। জাতীয় সড়ক ১৯-এর ধারে জোতরাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, জোতরাম এলাকায় গাঁজার একটি বড় চালান সরবরাহ করতে কিছু ব্যক্তি আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শক্তিগড় থানার পুলিশ এলাকায় ব্যাপক নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে ওই চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের তল্লাশি চালাতেই বিপুল পরিমাণ এই মাদক উদ্ধার হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি ওড়িশায় এবং দুজনের বাড়ি বর্ধমান থানা এলাকায়। তারা বাসে করে জোতরাম এলাকায় এসে নেমেছিল এবং স্কুটিতে করে গাঁজার এই চালান নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। রাস্তার নির্জন ও অন্ধকার অংশকে ব্যবহার করে এই পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ধৃতদের মধ্যে দিব্যাসা মাঝি (৫৯) ও সুভদ্রা নায়েক ওরফে লতা (৩৫) এদের বাড়ি উড়িষ্যার ফুলবাগান জেলার টাউন থানার কেন্দুপাড়া এলাকায়। অন্য দুজন অর্থাৎ প্রিন্স তেওয়ারি ওরফে রোহিত মিশ্রা (১৯) এর বাড়ি বর্ধমান থানার বিজয়রাম এলাকায় এবং ইন্দু তেওয়ারি (৫৫), বাড়ি বর্ধমান থানার বাদশাহী রোড, শর্মা পাড়া এলাকায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বর্ধমানের নবাবহাট-তালিত রোডের বীরপুর এলাকাতেও জাতীয় সড়কের পাশ থেকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এক মহিলা পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছিল বর্ধমান থানার পুলিশ। বারবার গাঁজা পাচারের হাতিয়ার হিসেবে মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, গাঁজার উৎসস্থল কোথায় এবং কাদের কাছে এই চালান পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত চারজনকে আজ, বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।








