ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: দুর্গাপুজোর ছুটি শুরুর আগে স্কুলে ‘ফুল খেলা’ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল খুদেদের। কিন্তু সেই আনন্দ-আবেগের মধ্যেই নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য ফুল কিনতে গিয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ব্যক্তি ও তাঁর ছ’বছরের ভাইঝির। বুধবার সকালে বর্ধমান শহরের কালীবাজার এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা গভীর শোকস্তব্ধ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম মইদুল মোল্লা (৩৫)। তিনি বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলাপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গ্যারেজকর্মী। এলাকায় তিনি ‘মিঠি’ নামেই পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তাঁর ছ’বছরের ভাইঝি সোহানা সুলতানা।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে মইদুল তাঁর নিজের মেয়েকে বর্ধমান বিদ্যার্থী গার্লস হাই স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। স্কুলে এদিন ‘ফুল খেলা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কাকাকে নিজের মেয়ের জন্য ফুল কিনতে দেখে ছোট্ট সোহানা আবদার করে তার জন্যও ফুল কেনার। ভাইঝির সেই আবদার মেটাতেই মইদুল তাঁকে মোটরবাইকে চাপিয়ে কালীবাজারে ফুল কিনতে যান।

অভিযোগ উঠেছে, ফুল কিনে ফেরার পথে উল্টো দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাক্টর প্রথমে এক রিকশাচালককে ধাক্কা মারে। এরপরই সেটি সজোরে ধাক্কা দেয় মইদুলের মোটরবাইকে। এর ফলে কাকা ও ভাইঝি দু’জনেই গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত দু’জনকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্রাক্টরচালক মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরের রাস্তায় এমন বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে চালকের মত্ত থাকার এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর বর্ধমান বিদ্যার্থী গার্লস হাই স্কুলেও পৌঁছলে সেখানে শোকের আবহ তৈরি হয়। পুজোর ছুটির আগে যে সকাল ছোটদের আনন্দে ভাসার কথা ছিল, এক নিমেষেই তা গভীর বিষাদে পরিণত হলো। কাকা ও ভাইঝির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, এলাকা এবং স্কুল চত্বরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।








