ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ২০২৬ সালের শারদোৎসবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যখন নতুন নতুন থিমের চমক দেখা যাচ্ছে, তখন বর্ধমানের টিকরহাট সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি এক ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। মৈত্রী সঙ্ঘের পরিচালনায় এবার তাদের পুজোর থিম ‘৪৬-এর আর্তনাদ’, যা ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ কলকাতা দাঙ্গার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে তুলে ধরবে। এই বিতর্কিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যার উপর ভিত্তি করে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর মতো সিনেমা তৈরি হয়েছে, এবার বর্ধমানের এই মণ্ডপের সজ্জায় জীবন্ত হয়ে উঠবে।

পুজো কমিটির সম্পাদক স্বপন রায় জানিয়েছেন, ক্লাবের জুনিয়র সদস্যদের মস্তিষ্কপ্রসূত এই ভাবনাকে সিনিয়ররা মান্যতা দিয়েছেন। মণ্ডপ জুড়ে শিল্পীর নিপুণ তুলির টানে ৮০ বছর আগের সেই মর্মান্তিক ইতিহাস যেন ফিরে আসছে। সুরাবর্দি বাহিনীর আক্রমণে রক্তাক্ত কলকাতার পথঘাট, সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকা নিথর দেহ এবং শকুন কর্তৃক সেই শবদেহ ছিঁড়ে খাওয়ার দৃশ্যগুলি মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রোজেক্টরের মাধ্যমেও সেই সময়ের দাঙ্গার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হবে, যা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।


এই থিমের মূল আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম হলো গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামেই অধিক পরিচিত, তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীসাথীদের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার সময়ে প্রতিরোধমূলক ভূমিকার বিস্তারিত উপস্থাপন রাখা হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়। স্বপনবাবু জানান, অনেকের কাছেই সেই অজানা ইতিহাস এখনো অধরা। টিকরহাটের এই পুজো মণ্ডপে এসে দর্শনার্থীরা কেবল দাঙ্গার ঘটনাই নয়, বরং গোপাল মুখোপাধ্যায়দের মতো অকুতোভয় মানুষের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ সম্পর্কেও জানতে পারবেন। সেই সময়ের বিভিন্ন খবরের কাগজের কাটিং ও তথ্যপ্রমাণও মণ্ডপে রাখা হবে।
এবছর এই পুজোর বাজেট প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তারা রাজ্য সরকার ঘোষিত ১ লক্ষ টাকা অনুদানের আশায় রয়েছেন। শিল্পীরা বর্তমানে মণ্ডপ সজ্জায় ব্যস্ত। প্রবেশ পথ থেকে প্রতিমা দর্শন পর্যন্ত ১৯৪৬ সালের সেই দাঙ্গার প্রতিটি মর্মান্তিক দৃশ্য ধাপে ধাপে ফুটিয়ে তোলা হবে, যা শারদোৎসবে ইতিহাসের এক গম্ভীর অথচ শিক্ষামূলক বার্তা বহন করবে।








