ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক: আগামী ৭ নভেম্বর, শনিবার পালিত হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ধনতেরাস। এই বিশেষ তিথিকে ধনত্রয়োদশী বা ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী নামেও অভিহিত করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সোনা, রূপা অথবা নতুন ধাতব জিনিসপত্র কিনলে ঘরে অর্থ ও সমৃদ্ধি আসে, এবং দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয়।

ধনতেরাস কেবল সম্পদের উৎসব নয়, এটি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুরও প্রতীক। এই দিনটিকে সমুদ্রমন্থন থেকে অমৃত হাতে আবির্ভূত হওয়া দেববৈদ্য ধন্বন্তরীর আবির্ভাব তিথি হিসেবেও উদযাপন করা হয়। তাই অনেকে এই দিনে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ধন্বন্তরী দেবের পূজা করে থাকেন। ভারতীয় আয়ুর্বেদ মন্ত্রক ২০১৬ সাল থেকে ধনতেরাসকে ‘জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস’ হিসেবেও পালন করে আসছে।
ঐতিহ্যগতভাবে, ধনতেরাসের দিন সন্ধ্যায় যমরাজের নামে প্রদীপ জ্বালানোর একটি বিশেষ প্রথা রয়েছে। এটি ‘যমদীপ’ নামে পরিচিত। বাড়ির দক্ষিণ দিকে এই প্রদীপ জ্বালানো হয়, যা অকালমৃত্যু ও যমযন্ত্রণা থেকে মুক্তির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়। এই প্রথার পেছনে একটি পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত আছে। কথিত আছে, রাজা হেমের পুত্রের ভাগ্যে বিবাহের পর মৃত্যু লেখা ছিল। যমদূতরা তাকে নিতে এলে, রাজবধূ বুদ্ধিমত্তার সাথে সারা ঘর সোনা, রূপা ও প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে দেন, যার আলোয় যমরাজের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পরে যমরাজ নিজেই বলেন যে, ধনতেরাসের দিন সন্ধ্যায় তার নামে দক্ষিণ দিকে প্রদীপ সমর্পণ করলে মানুষ যমযন্ত্রণা থেকে রক্ষা পায় এবং দীর্ঘ নীরোগ জীবন লাভ করে। এই কাহিনি থেকেই যমদীপদানের প্রচলন শুরু হয়।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ধনতেরাসের ত্রয়োদশী তিথি ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ৮ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে শেষ হবে। উদয় তিথি এবং প্রদোষকালে লক্ষ্মী-কুবের পূজার শুভ মুহূর্ত বিবেচনা করে ৭ নভেম্বরকেই মূল ধনতেরাস উৎসব পালনের জন্য শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই দিনে সোনা, রূপা ছাড়াও পিতল, কাঁসা, তামা, লবণ, ঝাঁটা, ধনে এবং লক্ষ্মী কড়ি কেনাও শুভ বলে বিবেচিত হয়।








