ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার চৌবেড়িয়া-পাঁচারা এলাকায় বালির বৈধ স্টক পয়েন্টে মাঝরাতে তোলাবাজির অভিযোগে এবার খোদ বিজেপি নেতা সহ তিন কর্মীকে হাতে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। পরে খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, গতকাল গভীর রাতে জামালপুর বিধানসভার বিজেপি এক নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বসন্ত পাঁজার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কর্মী বালির স্টক পয়েন্টে প্রবেশ করে লক্ষাধিক টাকা তোলা দাবি করে। অনুমোদিত স্টক পয়েন্টের ইজারাদার দাবি করেছেন, জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা শাসকের বৈধ অনুমতি ও চালান নিয়েই তাঁরা বালি ব্যবসা চালাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতারা বেআইনিভাবে মাঝরাতে স্টক পয়েন্টে ঢুকে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই বিজেপি নেতা ও কর্মীদের আটক করে এবং তাদের হাতে দড়ি বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বালির কারবারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও তোলাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতেও পূর্ব বর্ধমানের বেলকাশ, ইদিলপুর, সদরঘাট এবং দামোদর নদের একাধিক এলাকায় বালি চুরি ও তোলাবাজি চক্রের অস্তিত্ব সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান ঘটনাটি দলের অন্দরেও তীব্র অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

এই প্রসঙ্গে জামালপুর এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি কোনোভাবেই এই ধরনের কার্যকলাপ সমর্থন বা বরদাস্ত করে না। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে বদনাম করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তোলাবাজি, কাটমানি খাওয়ার দিন শেষ হয়েছে। যারা এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, পুলিশ ও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।” পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।








