---Advertisement---

Auto Image Slider

ভূতের ভয় নয়, ভক্তি! ভূত চতুর্দশীর ৭টি সহজ রীতির রহস্য জানুন

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক: আগামী ৭ নভেম্বর, বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে পালিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ভূত চতুর্দশী। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই চতুর্দশী তিথি পূর্বপুরুষদের স্মরণ, অশুভ শক্তি নিবারণ এবং গৃহের মঙ্গল কামনার এক বিশেষ দিন। এই দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চৌদ্দ শাক ভক্ষণ ও দীপ প্রজ্বলন।

বিজ্ঞাপন

চৌদ্দ শাক ও প্রদীপের তাৎপর্য ভূত চতুর্দশীর মূল রীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো চৌদ্দ প্রকারের শাক ভক্ষণ। বিশ্বাস করা হয়, প্রকৃতির ১৪টি ভিন্ন শাক একত্রিত করে ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে খেলে যমের ছায়া গৃহে প্রবেশ করতে পারে না এবং স্বর্গত পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পরিবারে বর্ষিত হয়। এটি প্রকৃতির প্রতি মানুষের এক গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনেরও প্রতীক। একই সঙ্গে, এই দিনে ইষ্ট দেবতা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই আলোকচ্ছটা কেবল অন্ধকার দূর করে না, বরং গৃহে শুভ শক্তির আগমন ঘটায় এবং অলক্ষ্মী দূর হয় বলে জনবিশ্বাস।

নরক চতুর্দশী ও মা কালীশাস্ত্র মতে এই বিশেষ দিনেই মা কালী মহাবলী নরকাসুরকে বধ করে বিশ্বকে তার অত্যাচার থেকে মুক্ত করেছিলেন। এই কারণে ভূত চতুর্দশী ‘নরক চতুর্দশী’ নামেও পরিচিত। এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ভূত চতুর্দশীর পালনবিধি: লোককথা অনুযায়ী, এই দিনে কিছু নির্দিষ্ট আচার-বিধি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে গৃহ এবং পরিবারের শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে:-

১.পাচন স্নান ও পুজো: সকালে তেল, ফুল ও চন্দন সহযোগে তৈরি পাচন দিয়ে স্নান করলে মানসিক অশান্তি দূর হয়। অনেকে স্নানের জলে তুলসী পাতা ব্যবহার করেন অশুভ শক্তি দূর করার জন্য। এরপর শুদ্ধ বস্ত্রে চালের গুঁড়ো, তিলের গুঁড়ো, ঘি ও চিনি দিয়ে ইষ্ট দেবতার পুজো করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়।

২.মহাদেবের আরাধনা:- এই চতুর্দশীতে মহাদেবের পুজো করলে নির্বাণ লাভ হয় এবং সর্ব মনস্কামনা পূরণ হয়। বিশ্বাস করা হয়, শিব পুজো পাপের প্রায়শ্চিত্ত ঘটায় এবং নরক গমন থেকে রক্ষা করে। ৩. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পোশাক:- ভূত চতুর্দশীর দিনে ঘর-দোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখা জরুরি। ঘরে থাকা ভাঙা বাসনপত্র সরিয়ে ফেলা উচিত, যা নেতিবাচক শক্তি সৃষ্টি করতে পারে। এই দিনে রঙিন পোশাক পরিধান শুভ, তবে কালো পোশাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

See also  সরকারি আবাস যোজনার ঘরের টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ! মেমারিতে পঞ্চায়েত সদস্যের গ্রেপ্তারিতে শোরগোল

৪. দ্বারে দীপ প্রজ্বলন:- গৃহের সদর দরজার বাইরে দুটি মাটির প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এটি পজিটিভ এনার্জি আকর্ষণ করে এবং সমগ্র পরিবারের জন্য শুভ ফলদায়ক হয়। ৫. শুভ চিন্তা:- এই দিনে অন্যের অনিষ্ট না চেয়ে সকলের মঙ্গল কামনা করা উচিত। কর্মব্যস্ততার মাঝেও মনে মনে ঈশ্বরের নাম স্মরণ ও জপ করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়।এই প্রথাগুলি শুধু প্রাচীন ঐতিহ্য নয়, বাঙালির সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা প্রতি বছর নতুন করে গৃহস্থের মনে শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---