---Advertisement---

Auto Image Slider

আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা বামদেব মন্ডল, পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,রায়না: মারধর, শ্লীলতাহানি, ভাঙচুর, চুরি, হুমকি এবং জোরপূর্বক অন্যের ঘরে প্রবেশের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের রায়না-১ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলকে শনিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছে রায়না থানার পুলিশ। একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রায়না দুই ব্লকের আড়ুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ হাসিম আব্দুল হালিম। এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে রায়না-১ ব্লকের জাকতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে বামদেব মণ্ডলকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, আড়ুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ হাসিম আব্দুল হালিমকে তাঁর আলমপুরের বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁকেও চার দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়েছে আদালত।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বামদেব মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ছিল। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, বামদেব মণ্ডলের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় রায়না-সহ গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন, “আগে দেখতে হবে বামদেব মণ্ডল কীভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিল। বেতাজ বাদশা হয়েছে বলেই তো আজ গ্রেপ্তার হয়েছে। সে কী কী কুকর্ম করেছে, রায়নার মানুষ সবাই জানেন। দক্ষিণ দামোদর অঞ্চল-সহ গোটা রায়না-১ ব্লকের মানুষ জানেন, তাঁদের উপর কীভাবে অত্যাচার চালানো হতো, কীভাবে হুমকি দেওয়া হতো। যত ধরনের কুকর্ম ছিল, সবকিছুর সঙ্গেই বামদেব মণ্ডলের নাম জড়িয়ে ছিল। শাসকদলে থেকেও সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেননি তিনি।”

See also  বর্ধমানের বাজারে নামি কোম্পানির মোড়কে নকল চা পাতার প্যাকেট উদ্ধার

একজন শাসকদলের বিধায়কের মুখে বিগত শাসকদলের দলেরই এক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা বা ব্লক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্যদিকে, ধৃত বামদেব মণ্ডল বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি।

রায়না পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার দিকে এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও কড়া নজর রয়েছে। রায়না জুড়ে এই গ্রেপ্তারীকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---